‘বাংলাদেশ এখন বিশ্বমানের দল’

45

বাংলাদেশকে হাল্কাভাবে নিতে পারি না আমরা। তারা একটি বিশ্বমানের দল- দুই ম্যাচের সিরিজে মুখোমুখি হওয়ার আগে টাইগার বাহিনী নিয়ে এমন উপলব্ধি অজি পেসার জশ হ্যাজেলউডের। বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়া দলে নেই পেসার মিচেল স্টার্ক ও জেমস প্যাটিনসন। এতে বাংলাদেশে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অজি বোলিংয়ের নেতৃত্ব দিবেন জশ হ্যাজেলউডই। আর এমন ভূমিকা নিতে তিনি নিজেও প্রস্তুত। বাংলাদেশ সফর সামনে রেখে গতকাল ডারউইনে অনুশীলন ক্যাম্পে জশ হ্যাজেলউড বলেন, ‘দলে আমি ছাড়া পেসার রয়েছেন আর দু’জন। বাকিরা স্পিন বোলার। আমরা যেভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছি তাতে আমার মনে হয় এতেই চলবে। সফরে দলের বোলিংয়ে আমি নেতা হিসেবে দেখছি নিজেকে। সেই অভিষেকের পর দল বদলেছে অনেকটা। জুনিয়র থেকে এখন আমি দলের একজন সিনিয়র খেলোয়াড়। এ জন্য আমি বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে সামনে থেকেই নৈপুণ্য দেখাতে চাই।’ বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে হ্যাজেলউডের সঙ্গী হিসেবে থাকছেন পেসার প্যাট কামিন্স ও জ্যাকসন বার্ড। বাংলাদেশের কন্ডিশন বিবেচনায় একজন বাড়তি স্পিনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া দলে সুযোগ দেয়া হয়েছে আনকোরা লেগ স্পিন তারকা মিচেল সুইপসনকে। সফরে অস্ট্রেলিয়া দলে রয়েছেন অফস্পিনার নাথান লায়ন ও বাঁ-হাতি স্পিন তারকা অ্যাশটন অ্যাগারও। গত বছর নিজ মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে ১-১এ ড্রয়ের কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। বিষয়টি মাথায় আছে হ্যাজেলউডেরও। ২৬ বছর বয়সী অজি পেসার জশ হ্যাজেলউড বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশ) একটা বিশ্বমানের দল (ওয়ার্ল্ড ক্লাশ টিম)। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাদের নৈপুণ্যটা ছিল দারুণ। আর নিজ মাটিতে টেস্টেও তারা খুব ভালো। আমরা তাদের হাল্কাভাবে নিতে পারি না, এটা নিশ্চিত।’ আগামী ২৭শে আগস্ট মিরপুরে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট। আর চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট মাঠে গড়াবে আগামী ৪ঠা সেপ্টেম্বর। তার আগে আগামী ১৮ই আগস্ট ডারউইনের অনুশীলন ক্যাম্প থেকে ঢাকার উদ্দেশে বিমান ধরবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ২০১৪’র ডিসেম্বরে ব্রিসবেনে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক জশ হ্যাজেলউডের। এরপর টেস্টে বল হাতে সবচেয়ে বেশি ওভার (১০৭৩) বল করার রেকর্ড তার। এ সময় ৩০ টেস্টে ডানহাতি এ পেসারের শিকার সর্বাধিক ১১৮ উইকেট। আর ১০৩৫ ওভার বল করে ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রড নেন ১১৫ উইকেট।
ডারউইনের মারারা স্পোর্টস গ্রাউন্ডে আজ নিজেদের মধ্যে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে অজিরা। তার আগে হ্যাজেলউড বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত পেস বোলাররা থাকেন আক্রমণে। আর বল হাতে স্পিনাররা থাকেন রক্ষণাত্মক ভূমিকায়। তবে উপমহাদেশের মাটিতে হয়তো উল্টোটা হবে। গাজ্জার (অফস্পিনার নাথান লায়ন) সুযোগ থাকবে বেশি। এশিয়ার মাটিতে সাম্প্রতিক নৈপুণ্যটা সুখকর নয় অজিদের। গত ১১ বছরে এশিয়ার মাটিতে ২২ টেস্টের মাত্র দুটিতে জয় দেখেছে অস্ট্রেলিয়া।