বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখায় বিশ্বাসী

27

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্কে বিশ্বাস করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটা স্বাভাবিক যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতাও চলমান থাকবে। যেকোনো সমস্যা আলাপ-আলোচনায় সমাধান হবে। ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার রফিউজ্জামান সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব বলেন। সাক্ষাৎ-বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস এ খবর দিয়েছে। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত এবং সমুদ্রসীমা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছে। ভারতের সংসদ সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত বিলটি সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করেছে। ভারতের সঙ্গে সমস্যাটির শান্তিপূর্ণ সমাধান সমগ্র বিশ্বের কাছে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সরকারপ্রধান বলেন, একইভাবে মিয়ানমারের সঙ্গেও সমুদ্রসীমা সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। আমরা শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে ভারত থেকে ৬২ হাজার শরণার্থী ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্রোহের অবসান ঘটিয়েছি। দারিদ্র্যকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শক্র পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চল থেকে দারিদ্র্যের মূল উৎপাটনে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার সরকারের নেতৃত্বে বিগত সাড়ে ৮ বছরে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন হয়েছে, তার একটি খণ্ডচিত্র তুলে ধরেন। বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পরই কতগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যাই। যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। জনগণ এখন এ সবের সুফল পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কার্যকর নীতিমালা বিশেষ করে অর্থনৈতিক নীতিমালা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে তার সরকার বিএনপি-জামায়াতের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। কিন্তু তারা (বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার) রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অংশ হিসেবে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি যেমন সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা এবং একটি বাড়ি একটি খামারের মতো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তান হাই কমিশনের সঙ্গে আলাপে শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সমাবেশে পরিচালিত গ্রেনেড হামলা এবং জঙ্গিদের সাহায্যে ৬৩টি জেলার ৫শ’ স্থানে পরিচালিত বোমা হামলার প্রসঙ্গ তোলেন। এ সময় সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে এতে করে অস্ত্র ব্যবসায়ীরাই লাভবান হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন হাইকমিশনার রফিউজ্জামান সিদ্দিকী। বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ধারায় পুরোপুরি পরিবর্তিত একটি দেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হয়েছেন এতে পাকিস্তানের জনগণও আনন্দিত। গত বছর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তান দূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদকে কঠোর হস্তে দমনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় ভয়াবহ ওই হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে অনেক সাধারণ বিষয় রয়েছে। দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নেই তিনি এসব বিষয়ে কাজ করে যেতে চান। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, তার দপ্তরের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।