বাংলাদেশ ২-৩ অস্ট্রেলিয়া আফসোসের হার বাংলাদেশের

36

ব্যবধানটা আকাশ পাতাল। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে যেখানে ছয় নাম্বারে অস্ট্রেলিয়া সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান তার ১০০ ধাপ পেছনে। বাছাই পর্বের ছয় ম্যাচে ৬৫ গোলের বিপরীতে মাত্র এক গোল হজম করেছিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ করতে পেরেছিল মাত্র ২৬ গোল। এ দলটির বিপক্ষে মাত্র ৯ মিনিটে গোল হজম করা বাংলাদেশ, ৩২ মিনিটে পরিণত হয় দশজনের দলে। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ এ লিডও নিয়েছিল ছোটনের শিষ্যরা। গোল দুটি করেন শামসুন্নাহার ও মনিকা। তবে শেষ পর্যন্ত ওই লিড আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি, ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরেছে ৩-২ ব্যবধানে।
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে মাঠে নামা দুই দলের ঝুলিতেই ছিলো দুটি করে হার। গোলও হজম করেছিল সমান ১২টি। এটিই উজ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল মনিকা-সানজিদাদের। এদিন থাইল্যান্ডের চনবুরির ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্যাল এডুকেশন স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের দর্শকের দেখা মিলে। প্রায় ৮৪ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ব্যাংকক থেকে দেশের খেলা দেখতে এসেছিলেন ছয় যুবক। শুরু থেকেই বাংলাদেশি মেয়েদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। জাপান ম্যাচে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের এদিন শুরুটাও হয়েছিল চমৎকার। শুরুর দশ মিনিটে একটি গোল ছাড়া কোনো আক্রমণ করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এই গোলটিতে যতটা কৃতিত্ব ছিলো অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের, তার চেয়ে বেশি দায় ছিল বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহমুদার। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বল নিয়ে পোস্টে ঢোকেন এমিলি হাগস। এগিয়ে এসে বোকার মতো কাজ করেন মাহমুদা। তাকে ফাঁকি দিয়ে আরামে বল জালে জড়ান এমিলি।
১১ মিনিটে মারিয়ার বাড়ানো বলে গোলরক্ষককে একা পেয়েও হাতে তুলে দেন মৌসুমি।
৩৩ মিনিটে কৃষ্ণার লাল কার্ডে দশজনের দলে পরিণত হয় বাংলাদেশ। কৃষ্ণাকে ফাউল করেন অস্ট্রেলিয়ার এক ফরোয়ার্ড। পাস থেকে কৃষ্ণা ওই ফুটবলারকে চার্জ করলে তাকে লাল কার্ড দেখান কোরিয়ান রেফারি ওই হাংওয়ান জং। মুহূর্তের মধ্যে মাঝমাঠে ডিফেন্ডার মাসুরাকে দায়িত্ব দিয়ে কৃষ্ণার জায়গায় মনিকাকে তৈরি করেন ছোটন। তার এই কৌশলে ৪৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। মাসুরার একটি লং পাস থেকে বল নিয়ে একাই পোস্টে ঢোকেন সিরাজ জাহান স্বপ্না। কাট করে ভেতরে ঢোকার মুহূর্তে তাকে ফেলে দেন ম্যাটিক। পেনাল্টিতে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান শামসুন্নাহার।
বিরতির পরে ৫১ মিনিটে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। মাসুরার দীর্ঘপাস থেকে বল পেয়ে যান স্বপ্না। স্বপ্নার শট আগুয়ান গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ফিরে আসা বলে মনিকার বুদ্ধিদীপ্ত শট জালে জড়ায় (২-১)। পরে দেয়া নেয়া করে দারুণ খেলতে থাকে ছোটনের শিষ্যরা।
৬০ মিনিটে রাজিয়া মাঠে নামলে মাঝমাঠেরও দখল চলে আসে লাল সবুজের প্রতিনিধিদের হাতে। মাঝে মধ্যে জুলিয়া ভিগনেস ও আমা সায়ার ভয়ঙ্কর হওয়ার চেষ্টা করলেও ডিফেন্সের দুই অতন্দ্র প্রহরী শামসুন্নাহার ও শিউলি আজিম বিপদ ঘটতে দেননি। এর পরেই হঠাৎ করে ঘটে ছন্দপতন। মাত্র ছয় মিনিটের এক ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন। ৭৮ মনিটে বক্সের বাইরে থেকে কারাকোনির ক্রসের শট দারুণ দৃঢ়তায় কর্নারে রক্ষা করেন মাহমুদা। সেই কর্নারে সরাসরি গোল করে ম্যাচে সমতায় ফেরান এই ফরোয়ার্ড। এই গোলে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে। ৮৩ মিনিটে কর্নার থেকে জটলার মধ্যে গোল করে অজিদের এগিয়ে এনে দেন সফিয়া সাকলিস। তার এ গোলেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয় বাংলাদেশের।
টানা এক বছরের অনুশীলনের এ টুর্নামেন্টে উত্তর কোরিয়া ম্যাচের কথা বাদ দিলে ভালোই করেছে বাংলাদেশ। হয়তো জয়ের মুখ দেখেনি সানজিদা-কৃষ্ণারা। জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে ফুটবল খেলেছে মেয়েরা তাতে তাদের নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা যেতেই পারে।
বাংলাদেশ দল: মাহমুদা (গোলরক্ষক), শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, মাসুরা পারভিন, সানজিদা, মৌসুমি (রত্না), মনিকা (মার্জিয়া), স্বপ্না (রাজিয়া), কৃষ্ণা, মারিয়া, আখি খাতুন