বাড়ছে পানি কাদঁছে মানুষ ঘর ছাড়ছে হাজারো পরিবার

39

পানি বাড়ছে তো বাড়ছেই। আবারো টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ৪০ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৮০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে চিলমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নজুড়ে আনুমানিক ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘর ছাড়া হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের চরম সংকট। হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে পানিবন্দি মানুষের মাঝে। প্রথম দফা বন্যার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় অনেকে ফের ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।
তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী গ্রামগুলোতে আনুমানিক ২৫ হাজার পরিবারের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবান্দি হয়ে পড়েছে। অসহায়ত্বে কাঁটছে তাদের জীবন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এসব গ্রাম ও পরিবারের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ঘর ছাড়া হয়ে পড়েছে। বানভাসী মানুষেরা হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল নিয়ে পড়েছে বিপাকে। নলকুপ, গোচারনভুমি পানিতে প্লাবিত হওয়ায় গোখাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সঙ্কট। অর্ধহারে অনাহারে অতিকষ্টে দিনাপাত করছে অনেক পরিবার। পানিবন্দি এলাকাগুলোর কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাট। যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, পাউবো সূত্রে জানা গেছে চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অপর দিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নয়ারহাট ইউনিয়নের খেরুয়ারচরে নির্মানধীণ আশ্রয়কেন্দ্রটি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।
নয়ারহাট ইউপি চেয়ারম্যান জানান তার ইউনিয়নের সকল মানুষ এখন পানিবন্দি এবং গত কয়েকদিনে শতশত পরিবার হারিয়েছে তাদের বসতবাড়ি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মির্জা মুরাদ হাসান বেগ জানান ইতি মধ্যে আমি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি এছাড়াও অতিসত্তর তাদের জন্য সাহায্যের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নের ভিজিডি বিতরনেরও খবর নেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলা জানান, ‘আমাদের কাছে জমা ছিল ২৩ টন। ইতি মধ্যে ২৫ টন বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তা অতি সত্বর বিতরন করা হবে।’