বিএনপিকে বাদ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাব জাতীয় পার্টির

28

সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের প্রতিনিধি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সুপারিশ করেছে জাতীয় পার্টি। সংসদে প্রতিনিধিত্ব না থাকায় বিএনপি এই সরকারে অংশ নিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাপার চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সোমবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে এরশাদ এ প্রস্তাব দেন।  বৈঠক শেষে এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, এই সরকারই অন্তর্বর্তী সরকার করবে। গতবারও তাই করেছিলেন, আশা করি এবারও করবেন। এটা ইসি’র এখতিয়ারভুক্ত নয়। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাবলিক পারসেপশন হলো সেনাবাহিনী যদি মোতায়েন করা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আমরা তাই বলেছি জনগণ চাচ্ছে তাই সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হোক। বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারে থাকতে পারবে কিনা এবং না থাকলে তাদের ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার গ্রহণযোগ্য হবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার হবে যারা সংসদে রয়েছে তাদের নিয়ে। বিএনপি তো সংসদে নেই। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে। তাই দুঃখজনক ঘটনা হলেও বিএনপি থাকতে পারবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশনার ও ইসি’র ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন। এরশাদের নেতৃত্বে ২৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন সংলাপে। তবে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ প্রতিনিধি দলে ছিলেন না। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংলাপে রকিব কমিশনের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে থাকা এরশাদ। তিনি বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে ১৪৫ জন খুন হয়েছে। আমরা চাই ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করুক। আমরা চাই নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হোক। সাধারণ মানুষ মনে করে সেনাবাহিনী থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। তবে তা হতে হবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। এসময় সিইসি’র উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাই। প্রমাণ করুন ইসি স্বাধীন। এটাই আমাদের মূল কথা। আমরা খুনোখুনির নির্বাচন দেখেছি। ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে কি যাবে না সেই ভীতি দূর করেন। জীবনের শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেই মরতে চাই। লিখিত বক্তব্যে এরশাদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলোপের মাধ্যমে আমরা কলঙ্কমুক্ত হতে পেরেছি। আমরা বলে আসছি সাংবিধানিক পন্থা অনুসারেই সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। সে অনুসারে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিনিধিরাই আসীন থাকবেন। স্বাধীনভাবে ইসিকে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসি’র উপর অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ করা চলবে না। লিখিত প্রস্তাবে আরো বলা হয়, ভোটের সময় সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে হবে। দলীয় প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ করতে হবে। জাপার অন্য প্রস্তাবগুলো হচ্ছে- নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন কোনো বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দায়িত্বে রাখা যাবে না, নির্বাচনী ব্যয় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে- সব খরচ তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করতে হবে, প্রচার কাজের গাড়িবহর সীমিত রাখার বিধান রাখতে হবে, সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে বারবার সীমানা নির্ধারণ না করে ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রয়োজনে সংবিধানের ধারা-উপধারা সংশোধন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিয়ে আসতে হবে। নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে একগুচ্ছ প্রস্তাবও দেয় জাপা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা