বিএনপির লন্ডন মার্কা সহায়ক সরকারের রূপরেখা জনগণ মানবে না

38

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের
নেতাকর্মীদের বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন আপনারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যান। বিএনপির একজন মামলার ভয়ে লন্ডনে পালিয়ে গেছেন। সাহস থাকলে তিনি দেশে এসে মামলা মোকাবিলা করুক। আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়েও অনেক কথা হচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় এসেছে টেমস নদীর পাড়ে বসে সহায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরি করছেন তিনি। বাংলাদেশে বসে এই রূপরেখা তৈরির সাহস ও যোগ্যতা বিএনপির নেই। বিএনপির লন্ডন মার্কা সহায়ক সরকারের রূপরেখা এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন যথাসময়েই হবে। সংবিধানের বাইরে কিছুই গ্রহণ করা হবে না। ইলেকশন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। আমরা শুধু তাদের সহায়তা দেব। নির্বাচনের জন্য যে যে সংস্থা দরকার সেগুলো শুধু ইলেকশন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত হবে। তাহলে বিএনপির ভয় পাওয়ার কি আছে। বিএনপি আসলে এদেশের জনগণকে ভয় পায়। নির্বাচনে হেরে যাবে বলে তারা এখন নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তিনি গতকাল দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মুক্তমঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভা ও সদস্য সংগ্রহ অভিযানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বিএনপির সমালোচনায় আরো বলেন- বিএনপি এখন খুন-গুমের কথা বলে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল মেয়াদে তারা রক্তাক্ত ইতিহাসের সৃষ্টি করেছিল। কত খুন, কত গুম। খুন, নির্যাতন আর লুটপাটের রেকর্ড করেছিল তারা। দুর্নীতিতে ৫ বার বিশ্বরেকর্ড করেছিল। যা নজিরবিহীন। এই রেকর্ড আর কেউ করতে পারবে না। বিএনপির আন্দোলন সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদের পর নাকি আন্দোলন হবে। ক’দিন পরেই কোরবানির ঈদ। রোজার ঈদের পর ২৫ দিন চলে গেছে। একমাস হতে না হতেই খালেদা জিয়া লন্ডন চলে গেলেন। লন্ডন থেকে ২ মাস পর ফিরবেন তিনি। তখন কোরবানির ঈদও চলে যাবে। এই ঈদ না ওই ঈদ করতে করতে ১৭টা ঈদ চলে গেলো। ১৭ বার তারা আন্দোলনের কথা বললেন। গত সাড়ে ৮ বছরে সাড়ে ৮ মিনিটের জন্যও তারা রাস্তায় নামতে পারেনি। বিএনপির আন্দোলনের মরা গাঙে আর ঢেউ আসবে না।
জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার প্রমুখ। প্রতিনিধি সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পদ শামসুন্নাহার চাপা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সদস্য মেরীনা জাহান কবিতা, পারভীন জামান কল্পনা, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, পৌর মেয়র নায়ার কবির প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. মনির হোসেন। এর আগে বেলা ১১টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে তিতাস নদীর উপর নির্মিতব্য নতুন সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।