বিদ্যুতের অপচয় করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

10

অনলাইন বার্তা ডেস্ক: বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবেন। বিদ্যুতের অপচয় করবেন না। সবাই মিলে সচেতন হলে দেশ এগিয়ে যাবে। বাস্তবায়ন হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। এ দেশের একটি মানুষও অন্ধকারে থাকবে না, সব মানুষ আলোয় পৌঁছাবে।

শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৩ উপজেলায় ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ২৩টি বিশেষায়িত বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৯৪ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ যেন উন্নয়ন পায়, তাদের ভাগ্যের যেন উন্নয়ন হয়, পরিবর্তন হয়, এ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ যাওয়ার কারণে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পেরেছি। এ দেশের একটি মানুষ গৃহ ছাড়া থাকবে না। একটি মানুষের জীবনে যা কিছু প্রয়োজন তার সবই আমরা পূরণ করব।

দেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছিল বলেই আমরা আজ এত উন্নয়ন করতে পারছি। আমরা বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে চাই। কারও কাছে ভিক্ষা চাই না। কারণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘ভিক্ষুক জাতির কোনো সম্মান থাকে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ ২৩৪টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। বাকি উপজেলাগুলো খুব শিগগিরই আমরা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনব। ২০২০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মুজিব বর্ষ পালিত হবে। মুজিববর্ষে শতভাগ বিদ্যুৎ সারাদেশে দিতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি। কেউ অন্ধকার থাকবে না, সব মানুষ আলোয় পৌঁছাবে।

প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুর, নাটোর, পিরোজপুর, নেত্রকোনার বিদ্যুৎ উপকারভোগী ছাত্র, ব্যবসায়ী ও মসজিদের ইমামের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

উদ্বোধন করা ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো- রংপুরে আনোয়ারায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলীতে ১১৩ মেগাওয়াট, শিকলবাহায় ১০৫ মেগাওয়াট, পটিয়ায় ৫৪ মেগাওয়াট, তেঁতুলিয়া ৮ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গাজীপুর ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতার ২৩ উপজেলা হলো- বগুড়ার গাবতলী, শেরপুর ও শিবগঞ্জ, চট্টগ্রামের লোহাগড়া, ফরিদপুরের মধুখালী, নগরকান্দা ও সালথা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি, গাইবান্দা সদর ও পলাশবাড়ী, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও নবীগঞ্জ, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ ও মহেশপুর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, লালপুর ও সিংড়া, নেত্রকোনার বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জ এবং পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া, কাউখালি ও ইন্দুরকানী।

Facebook Comments