বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৮৭ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব বিউবো’র

49

পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৮৭ পয়সা (ইউনিট) হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। অন্যদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ৫৭ পয়সা অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৮ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। সোমবার সকালে কাওরান বাজারের টিসিবি মিলনায়তনে বিউবোর দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শুরু হয়। গণশুনানিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসি’র চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য মিজানুর রহমান ও আজিজ খান, পিডিবি’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ প্রমুখ। শুনানিতে অংশ নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠনের কর্মকর্তারা দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি দূর করতে পারলে দাম বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যুতের দাম আরো কমানো যাবে। দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বিউবো চলতি বছরের ২০শে ফেব্রুয়ারি এই দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেয় বিইআরসিতে। তখন ৭২ পয়সা হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলো। এরপর বেশ কয়েক মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ৮৭ পয়সা হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করেন বিউবো জিএম (বাণিজ্যিক পরিচালন) কাওছার আমিন আলী। বিউবো’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ইউনিট প্রতি ৫ দশমিক ৭২ টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বর্তমানে ইউনিট প্রতি ৪ দশমিক ৮৫ টাকা হারে বিক্রি করছে। এতে বিউবোর ইউনিট প্রতি লোকসান হচ্ছে ৮৭ পয়সা। সে কারণে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো প্রয়োজন। জিএম বাণিজ্যিক (পরিচালন) বলেন, ভর্তুকি দেয়ার কথা বলা হলেও ভর্তুকি না দিয়ে ঋণ দেয়া হয়েছে। এতে ২০০৬-০৭ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৬ শ’ ১০ কোটি টাকা। যার সুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪শ’ ৮১ কোটি টাকা। এতে করে বিউবো দিন দিন সংকটে পড়ছে। এখন সংকট কাটতে অবচয় তহবিল থেকে ব্যয় পরিচালনা করতে হচ্ছে। অবচয় তহবিলে ২২ হাজার ৩ শ’ ৭০ কোটি টাকা জমা থাকার কথা। কিন্তু জমা আছে ৩ শ’ ১৯ কোটি টাকা মাত্র। অর্থ সংকটের কারণে ওভারহোলিং রক্ষণাবেক্ষণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ওপর গণশুনানি শুরু করে বিইআরসি। ২৭শে সেপ্টেম্বর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ২৮শে সেপ্টেম্বর ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) শুনানি গ্রহণ করবে বিইআরসি। এরপর তিনদিন বিরতি দিয়ে ২রা অক্টোবর আবার গণশুনানি শুরু হবে। এদিন ঢাকা ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) দাম ?বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩রা অক্টোবর ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো), শেষদিন ৪ঠা অক্টোবর নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (নওজোপাডিকো) প্রস্তাবের উপর গণশুনানি হবে। বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের আগস্টে বিদ্যুতের দাম গড়ে ২.৯৩ শতাংশ হারে, আর গ্যাসের দাম ২৬.২৯ শতাংশ হারে বাড়ায় সরকার। সেপ্টেম্বর মাস থেকে বর্ধিত মূল্য কার্যকর করা হয়। এর আগে ২০১৪ সালের মার্চে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম বাড়ানো হয়। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিইআরসি’র গণশুনানি শুরুর প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে টিসিবি মিলনায়তনের সামনে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা