বিনামূল্যে আইনি সেবার সুফল পাচ্ছে শেরপুরের মানুষ

63

জাহিদুল খান সৌরভ : শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার ওজুফা বেগম স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে এক বছর আগে বাবার বাড়িতে ফিরে যান। তাঁর মেয়ের বয়স তখন ছয় বছর। যৌতুক না পেয়ে স্বামী মোরশেদ পরে তাঁকে তালাক দেন।

এ অবস্থায় এক আত্মীয়ের কাছে ওজুফা জানতে পারেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস শেরপুরের কথা। এরপর ২০২০  সালের জানুয়ারিতে তিনি সেখানে গিয়ে আইনগত সাহায্যের আবেদন করেন। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) ওজুফার পক্ষে মামলা লড়তে ওই সময়েই প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এরপর পারিবারিক এই মামলায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওজুফার পক্ষে রায় হওয়ার পর স্ত্রীর সমস্ত পাওনা স্বামী মোরশেদ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যেমে পরিশোধ করেন।

এবিষয়ে ওজুফা বেগম বলেন, মামলা চালাতে আমার একটি পয়সাও খরচ হয় নাই। দেনমোহরের ট্যাকা বুঝে পাইছি। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। ওজুফার মতো এমন অনেক অসহায় ও আর্থিক অসচ্ছল ভুক্তভোগীদের বিনা মূল্যে আইনি সেবা দিয়ে যাচ্ছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, করোনাকালীন সময়ে বিগত এক বছরে অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল ২০২০ থেকে ২৮ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত  সরাসরি মামলার জন্য মোট আবেদন পড়েছে ৩৪৫ টি, মোট মামলা নিষ্পত্তি ৬৫ টি, বিকল্প পদ্ধতিতে সফল নিষ্পত্তি ২৮৩ টি, নথিজাত আছে ৮৩ টি, অপেক্ষামান ১০৩ টি, পরামর্শ প্রদান করা হয় ৭৪২ জনকে, এডিআর এর ফলে বিচারাধীন বা চলমান মামলা নিষ্পত্তি ২৪২ টি হয়েছে।

এডিআর এর মাধ্যমে মোট ২,৫০,৪৭৬৫০ (দুই কোটি পঞ্চাশ লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার ছয়শত পঞ্চশ) টাকা আদায় করে পক্ষগণের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ব্যক্তি সরকারি আইনি সহায়তা পেয়েছেন।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সিনিয়র সহকারী জজ মো. জুলফিকার হোসাইন রনি জানান, মানুষ এখন নিজের অধিকার সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি জেলা ও দায়রা জজ মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায়, এগিয়ে যাচ্ছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস শেরপুরের কার্যক্রম।

বিনামূল্যে আইনি সেবার পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর কার্যক্রম বিচারপ্রার্থী জনগণের মাঝে দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এসময় তিনি আরও বলেন, গত এক বছরে শেরপুরে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।