বিপিএলেও শঙ্কায় তামিম-মোস্তাফিজ!

30

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন তামিম ইকবাল ও মোস্তাফিজুর রহমান। এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে (বিপিএল) খেলা নিয়েও শঙ্কায় আছেন দেশের দুই সেরা ক্রিকেটার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীর মতে তাদের ইনজুরির যে ধরন তাতে ন্যূনতম তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে তাদের। বিপিএলের ৫ম আসর মাঠে গড়াবে ৪ঠা নভেম্বর সিলেটে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জার্সি গায়ে খেলার কথা তামিম ইকবালের। আর পেসার মোস্তাফিজ খেলবেন রাজশাহী কিংসে।

অন্যদিকে সুসংবাদ আছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে। চোখের সমস্যা অনেকটাই কমে এসেছে। চিকিৎসকরা তাকে অনুশীলনও করতে বলেছেন। তামিম ইকবালকে নিয়ে দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, সে (আজ) ফিরে আসছে। আসলেই একটি এম আর আই করবো। সেটার উপর ভিত্তি করেই তার চিকিৎসা শুরু হবে আর চূড়ান্ত সময়টা বলতে পারবো তার মাঠে ফিরতে কত দিন লাগতে পারে।’
বিপিএলের পর বাংলাদেশ সফরে আসবে শ্রীলঙ্কা দল। এরপর আগামী বছর বাংলাদেশের রয়েছে আন্তর্জাতিক আরো সিরিজ। দক্ষিণ আফ্রিকাতে তামিম যে উরুর মাংসপেশীতে চোট পান সেটি তার আগে থেকেই ছিল, যা এ সফরে নতুন ভাবে দেখা দিয়েছে। তাই পুরোপুরি সুস্থ না হয়ে বিপিএল খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়লে দেশের হয়ে খেলতে পারবেন না। তাহলে তাকে নিয়ে কতটা ঝুঁকি নিবে বিসিবি? এ বিষয়ে দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘দেখেন এম আর আই করানোর পর যে রিপোর্ট পাবো আমার বিশ্বাস সেখানে তার ইনজুরির ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত থাকবে। তখন আমাদের একটা সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। ইনজুরি যদি গ্রেড-১ না হয়ে গ্রেড-২ মধ্যে তাকে তাহলে তাকে আমরা দ্রুত খেলায় ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করবো। আর যদি তার ইনজুরির মাত্রা এর বেশি থাকে তাহলে আমরা তাকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করবো। কারণ সম্পূর্ণ সুস্থ না হয়ে মাঠে ফিরলে ক্রিকেটারের ক্ষতি করবে। আমরা চাইবো না যে তামিম সম্পূর্ণ সুস্থ না হয়ে বিপিএলে খেলুক।’
অন্যদিকে মোস্তাফিজুর রহমানের গোড়ালিতে যে ইনজুরি সেটা যদি সবচেয়ে কম মাত্রার ক্ষতিও হয়ে থাকে তাহলেও তার মাঠে ফিরতে তিন সপ্তাহের মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন দেবাশীষ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ওর স্ক্যান সেখানে করানো হয়েছে কিনা সেটি আমরা এখনো জানি না। তবে যেটা শুনেছি ওর ইনজুরিটা যেখানে সেটা যদি সামান্য পরিমাণেও হয় তবে তার তিন সপ্তাহ সময় লাগবে মাঠে ফিরতে। আর মাঠে ফিরেই তো খেলা শুরু করতে পারবে না। ফিট হওয়ারও একটা বিষয় আছে।’
অনুশীলন করছেন মোসাদ্দেক
চোখের ইনফেকশনে আক্রান্ত তরুণ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের খেলতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন বিসিবির চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘ওর চোখের যারা চিকিৎসা করছেন তারই বলে দিয়েছেন ওর এখন আর খেলতে কোনো সমস্যা নেই। ওর চোখের দৃষ্টিতে যদি কোনো সমস্যা আর না থাকে তাহলে খেলতেও কোনো সমস্যা নেই। এখন সৈকত ময়মনসিংহে অনুশীলন করে যাচ্ছে। ও জানিয়েছে বেশ ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি ফিট থাকে তাহলে বিপিএলে খেলতে ওর কোনো সমস্যা নেই বলেই বলতে পারি।’ ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলবেন মোসাদ্দেক।

সচেতন হতে হবে ক্রিকেটারদের
নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েও বাংলাদেশ দলে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আঘাতের শিকার হন। এবারো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে, সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম, ইমরুল কায়েস আঘাত পান। কেন দেশের বাইরে ক্রিকেটারদের ইনজুরির মিছিল? এ বিষয়ে দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘আসলে কারো ইনজুরির ধরন এক নয়। যে কারণে সঠিক কারণটাও বলা কঠিন। তবে দেশের বাইরে তো ওয়েদার, কন্ডিশন ভিন্ন থাকে।
পরিস্থিতিও কিছুটা ভিন্ন তাই কিছুটা ইনজুরি হওয়ার শঙ্কা তো থাকেই।’ তবে দলের ঘনঘন ইনজুরির দায়টা কার? চিকিৎসক, ফিজিও নাকি ক্রিকেটারদের অবহেলা? এ প্রশ্নের জবাবে দেবাশীষ বলেন, ‘আসলে চোখ খোলা রাখতে হবে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে সবারই। ক্রিকেটারদের তো আরো সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে অনুশীলনের সময় ইনজুরি আক্রান্ত হওয়াটা খুবই দুঃখজনক। একজন ক্রিকেটার ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুতি নেন। কিন্তু সেখানে ইনজুরি হয়ে গেলে তার আর খেলা হয় না। বিশেষ করে ফুটবল খেলার সময় সতর্ক থাকতে হবে। ফুটবল খেলা হয় ওয়ার্মআপ করার জন্য। কিন্তু সেখানে ক্রিকেটাররা যদি তা সিরিয়াসলি খেলে তাহলে ইনজুরির সম্ভাবনা থাকে। মোস্তাফিজের ইনজুরি কিন্তু খেলতে গিয়েই হয়েছে। তাই বলবো অন্তত অনুশীলনের সময় যেন ক্রিকেটাররা সতর্ক থাকে।’