বিশ্বের সবচেয়ে কম নিরাপদ শহরগুলোর একটি ‘ঢাকা’

32

বিশ্বের সবচেয়ে কম নিরাপদ শহরগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ঢাকা। তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক কোম্পানি এনইসি এর পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ‘দ্য সেফ সিটিস ইনডেক্স-এ’ (নিরাপদ শহরের তালিকা) এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ৬০টি শহর নিয়ে তৈরি ওই তালিকার একেবারে নিচের দিকে, ৫৮ নম্বরে অবস্থান করছে ঢাকা। ঢাকা সহ তালিকার শেষের দিকে অবস্থান করা শহরগুলো হচ্ছে যথাক্রমে, কায়রো (৫১), তেহরান, কুইটো, ক্যারাকাস, ম্যানিলা, হো চি মিন সিটি, জাকার্তা, ঢাকা, ইয়াঙ্গুন ও সবশেষে রয়েছে করাচি। অপরদিকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে যথাক্রমে, টোকিও(১), সিঙ্গাপুর, ওসাকা, টরন্টো, মেলবোর্ন, অ্যামস্টার্ডাম, সিডনি, স্টকহোম, হংকং ও জুরিক। তালিকাটি ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো ৪৯টি নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট নির্দেশক বিবেচনা করে তৈরি করা হয়ে থাকে। এই তালিকার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকার একেবারে নিচের দিকের বেশিরভাগ জায়গাই এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোর দখলে রয়েছে। আর তালিকার একেবারে নিচে যথাক্রমে অবস্থান করছে, ঢাকা, ইয়াঙ্গুন ও করাচি। এছাড়া তালিকার নিচের দিকে অবস্থান করা দক্ষিণ-পশ্চিম এশীয় শহরগুলো হচ্ছে- ম্যানিলা, হো চি মিন সিটি ও জাকার্তা; দক্ষিণ এশীয় শহরগুলো হচ্ছে- ঢাকা ও করাচি এবং মধ্য প্রাচ্যীয় ও আফ্রিকান শহরগুলোর মধ্যে স্থান পেয়েছে-কায়রো ও তেহরান। উল্লেখ্য, গত বছরের নিরাপদ শহরের তালিকায় ঢাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ বছরের তালিকায় নতুন ১০টি শহর যোগ করা হয়েছে। ঢাকা সেগুলোর মধ্যে একটি। তালিকা-ভিত্তিক প্রতিবেদনটিতে বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা ফ্যাক্টর নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেগুলোর একটি হলো সাইবার বা ডিজিটাল নিরাপত্তা। ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রথম দিকে রয়েছে যথাক্রমে, টোকিও, সিঙ্গাপুর, শিকাগো, অ্যামস্টার্ডাম ও হংকং। অন্যদিকে একেবারে নিচের দিকে রয়েছে যথাক্রমে, হো চি মিন সিটি, ইয়াঙ্গুন, ঢাকা (৫৮), ম্যানিলা ও সবশেষে রয়েছে জাকার্তা। এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, এই ক্যাটাগরিতে তালিকার নিচের দিকে থাকা ৫টি শহরের প্রত্যেকটিই হচ্ছে নিম্নআয়ের শহর। এসব শহরগুলো প্রায়ই প্রযুক্তিগত দক্ষতার দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকে। পাশাপাশি ছোঁয়াচে রোগ বা দরিদ্রতার মতো বিষয় সামাল দেয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর গুরুত্ব এমনিতেই কমে যায়। ডিজিটাল নিরাপত্তার মতো অপর একটি বিষয় হচ্ছে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা। তালিকার এই ক্যাটাগরিতেও বাংলাদেশ পেছনের দিকেই রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তার চেয়ে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার অবস্থা আরো খারাপ। এই ক্যাটাগরিতে প্রথম দিককার শহরগুলো হচ্ছে যথাক্রমে, ওসাকা, টোকিও, ফ্র্যাংকফুর্ট, জুরিক ও সিউল। আর শেষের দিকে অবস্থান করছে যথাক্রমে, জাকার্তা, কাইরো, ইয়াঙ্গুন, ঢাকা (৫৯) ও সবশেষে করাচি। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বলা হয়, সাধারণত দরিদ্র শহরগুলো পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ দিতে হিমশিম খায়। আর এই ক্যাটাগরিতে নিচের দিকে অবস্থান করা ৫টি শহরের (ঢাকা সহ) ৩টি-ই হচ্ছে নিম্ন আয়ের শহর। আবার অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ক্যাটাগরিতে ঢাকার অবস্থান তালিকার একেবারে তলানিতে। এই ক্যাটাগরিতে তালিকার শেষের ৫ শহর হলো যথাক্রমে, ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটো, ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা, ইয়াঙ্গুন, করাচি ও সবশেষে ঢাকা(৬০)। অন্যদিকে প্রথমদিকে রয়েছে, যথাক্রমে, সিঙ্গাপুর, মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, স্টকহোম ও নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেফ সিটিস ইনডেক্সের নিম্নভাগে অবস্থান করা বেশিরভাগ শহরই হচ্ছে নিম্নআয়ের শহর। যেমন মুম্বই, দিল্লি, ম্যানিলা, ইয়াঙ্গুন, করাচি ও ঢাকা। জাতিসংঘের মানুষের বসতি সম্পর্কিত সংস্থার আর্বান রিস্ক রিডাকশন ইউনিটের প্রধান ড্যান লিওয়িস বলেন, এই শহরগুলোকে নিরাপদ করে তুলতে শহুরে অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিমাণ অর্থায়ন প্রয়োজন। শহরের স্থিতিস্থাপকতা অবকাঠামোগুলোর কাজের ওপর নির্ভর করে। যেকোনো অবকাঠামো সরাসরি এর ব্যবস্থাপকের মর্জির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। তিনি বলেন, কিছু জায়গায় অবকাঠামোগুলো বেশ দুর্বল। কিন্তু এগুলোর পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বেশ ভালো। অন্যান্য ক্ষেত্রে, ভালো অবকাঠামো থাকলেও ব্যবস্থাপনার সামর্থ্য সীমিত।

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা