বিসিবিতে কি পরিবর্তন আসবে?

31

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন প্রক্রিয়া জোরেশোরেই শুরু হয়ে গেছে। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনের বিশাল কর্মকাণ্ড। প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় ক্রীড়া সংস্থা নির্বাচন নিয়ে বেশ সরব। চলছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা- সমালোচনা। প্রভাব খাটিয়ে কে হবেন কাউন্সিলর তা নিয়ে প্রতিযোগিতাও কম নয়। কারণ কাউন্সিলররাই ২৫ সদস্যের পরিচালনা পরিষদ নির্বাচিত করবেন। উৎসুকদের প্রশ্ন, এ নির্বাচনে কি বিসিবিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে? এখনো প্রার্থীদের মনোনয়ন হয়নি। তারপরও প্রশ্ন নির্বাচনে বর্তমান বোর্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী কোথায়! যতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাতো নিজেদের মধ্যেই। ২০১৩ সালের নির্বাচনে উত্তাপ ছড়িয়েছিলেন সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিয়ে। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগে তিনি হাল ছেড়ে দেন। তারপর আগের নির্বাচনে একটি লড়াই ছিল সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও খালেদ মাহমুদ সুজনের মধ্যে। এবার কী হবে? যতটুকু জানা গেছে নতুন নির্বাচনে দেখা মিলবে বোর্ডের পুরানো মুখগুলোর। তবে নতুন দুই একজন যে আসছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পরিচালক নাজমুল করিম টেংকু মারা গেছেন। তার স্থানে নতুন মুখতো আসবেই। নির্বাচনের আগে গুঞ্জন শওকত আজিজ রাসেল, তানজিল চৌধুরী, আবু আউয়াল চৌধুরী বুলু, আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববির না থাকার। কিন্তু একটি সূত্র জানিয়েছে সেই সম্ভাবনা এখন একেবারেই ক্ষীণ। তবে জানা গেছে বাদ গড়তে পারেন আহমেদ ইকবাল হাসান। আর এতেই দুটি বা তিনটি নতুন মুখের দেখা মিলতে পারে। সেই ভাগ্যবান কারা? নাম শোনা যাচ্ছে শায়ান এফ রহমান, ওবায়েদ নিজাম, তানভির আহমেদ টিটো, মোকসেদুর রহমান বাদলের।
নির্বাচনে সভাপতি পদে নাজমুল হাসান পাপনের কোনো বিকল্প নেই। এখন পর্যন্ত তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কোনো নাম শোনা যায়নি। যদিও মাঝে শোনা গিয়েছিল নাজমুল হাসান আর থাকছেন না। সেক্ষেত্রে তারই দলের এমপি গাজী গোলাম দস্তগীর সভাপতি পদে নির্বচন করতে পারেন। কিন্তু সেটি ছিল নিছকই গুজব। বোর্ডের একটি সূত্র দাবি করেছে, নাজমুল হাসান পাপন তার শেষ বোর্ড সভাতে জানিয়ে দিয়েছেন বড় কোনো পরিবর্তন না করার কথা। যে কারণে অনেকটা নিশ্চিত ভাবেই বোর্ডে থেকে যাচ্ছেন আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের তানজিল চৌধুরী। এমনকি পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার এম এ হাসেমের ছেলে এবং সাবেক বোর্ড পরিচালক আজিজ আল কায়সার টিটোর ছোট ভাই শওকত আজিজ রাসেলও। আগের বোর্ডের সহসভাপতি মাহবুবুল আনাম, এনায়েত হোসেন সিরাজ, আজম নাসির উদ্দিন, আফজালুর রহমান সিনহা, জালাল ইউনুস, লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, হানিফ ভূঁইয়া, খালেদ মাহমুদ সুজন, আকরাম খান, গাজী গোলাম মুর্তজা পাপ্পা, নজিব আহমেদরা থাকবেন বহাল তবিয়েতেই।
কেন নাজমুল হাসান পাপন বাহিনী এতটা নির্ভার? ক্যাটাগরি ২, ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের ১২ ক্লাবের মধ্যে সুপার লীগে খেলেছে ৬টি। তাদের কাউন্সিলরের সংখ্যা ২ জন করে ১২টি। বাকি ৬টি ক্লাবের একজন করে কাউন্সিলর থাকবে। তার মানে ক্লাব থেকে আসছেন ১৮ জন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ মিলে মোট ৫৮ ক্লাব কাউন্সিলর। তাদের ভোটেই নির্বাচিত হবেন ১২ জন পরিচালক।
ঢাকার ক্লাবের প্রায় ৯০ ভাগ কাউন্সিলরই বর্তমান সভাপতির পক্ষে। সম্প্রতি বিসিবির যে এজিএম ও ইজিএম হয় সেখানে সারা দেশের কাউন্সিলরদের ওপর বিসিবির বর্তমান কমিটির প্রভাব চোখে পড়েছে দারুণভাবে। এজিএমে অংশ নেয়া ১৩৮ জন কাউন্সিলরই বর্তমান কমিটির সংশোধিত গঠনতন্ত্র নীরবে অনুমোদন দিয়ে যান। নাজমুল হাসান পাপন জানান, ‘একজন কাউন্সিলরও আমাদের বিরোধিতা করেনি।’ তার মানে নির্বাচনের আগেই ৮০ ভাগ কাউন্সিলরের সমর্থন নিজেদের পক্ষে এনেছেন বর্তমান কমিটি। শুধু তাই নয়, বর্তমান পরিচালনা পরিষদ ক্রিকেটারদের সম্পৃক্ততা এতটা বাড়িয়েছেন যে বেশির ভাগ ক্রিকেটারই এখন তাদের পক্ষে। সব মিলিয়ে নতুন দুই-তিনটি মুখ ছাড়া বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস নেই।
নতুন মুখ যারা আসতে পারেন তাদের মধ্যে অন্যতম বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমানের ছলে শায়ান এফ রহমান। তিনি বিপিএলের দল ঢাকা ডায়নামাইটসেরও কর্ণধার হলেও আবাহনীর কাউন্সিলর হিসেবে থাকবেন তিনি। ওবায়েদ নিজাম প্রায় এক যুগ ধরে নানাভাবেই ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত। ওল্ডডিওএইচএস ক্লাবের পরিচালনা দিয়ে তার আত্মপ্রকাশ। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনের বন্ধুস্থানীয় ওবায়েদ নিজাম আগের বার বিপিএলে ঢাকা ডাইনামাইটসের সিইও হিসেবে কাজ করেছেন।
মোকসেদুর রহমান বাদল হচ্ছেন ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের ক্রিকেট কমিটির বর্তমান সভাপতি (নাজমুল হাসান পাপনের ফুফাতো ভাই)। আর তানভির আহমেদ টিটো নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। কিছু বিষয় অবশ্য শোনা যাচ্ছে শায়ান এফ রহমান বা ওবায়েদ নিজাম থেকে যে কোন একজনের আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তানভির আহমেদ টিটো শেষ পর্যন্ত আসবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আবার আলোচনায় না থাকলেও হঠাৎ করে কেউ চলে আসতে পারেন দৃশ্যপটে। সব কিছু আবর্তিত হবে বর্তমান সভাপতির সম্মতিতেই।