বিসিবি’র কার্যনির্বাহী কমিটির কার্যক্রম নিয়ে রুল এজিএম-এ বাধা নেই

34

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাধারণ সভা (এজিএম) ও বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজনে আইনি কোনো বাঁধা নেই। তবে বিসিবি’র বর্তমান কমিটির কার্যক্রম কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিসিবি’র বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে গতকাল এ আদেশ দেয়া হয়। বিচারপতি এসএম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ভীস্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এজে মোহাম্মাদ আলী ও ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক। বিসিবি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমাদের এজিএম করতে কোনো বাধা নেই। তবে যে রুল জারি হয়েছে তার সঠিক জবাব আমরা আদালতকে দেবো। এখন পর্যন্ত আমাদের জন্য সন্তুষ্টির বিষয় হলো, আদালত থেকে এ পর্যন্ত যে ক’টি আদেশ এসেছে তা আমাদের কোনো কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেনি। আশা করি এবারও করবে না। যারা মামলা করছে তারা করবেই এ নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
২০১২ সালের ১লা মার্চ গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছিল বিসিবি। সেটি অনুমোদন না দিয়ে কিছু সংশোধনী এনে ওই বছরের নভেম্বরে নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি করে এনএসসি। ডিসেম্বরে এনএসসি’র সংশোধিত গঠনতন্ত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন বিসিবি’র নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত ইউসুফ জামিল বাবু ও মোবাশ্বের হোসেন। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন, এনএসসি’র সংশোধিত গঠনতন্ত্র অবৈধ। পরদিনই হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে এনএসসি ও বিসিবি। ওই বছর ২৫ জুলাই আপিলের অনুমতি দেয়া হয়। পরে দেশের স্বার্থ বিবেচনায় এনএসসি’র সংশোধিত গঠনতন্ত্রেই নির্বাচনের অনুমতি পায় বিসিবি।
তবে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকে। অবশেষে চারবছর পর সুপ্রিম কোর্টও হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে রায় দেন। তবে সেখানে উল্লেখ করা হয়, গঠনতন্ত্র পরিবর্তন বিসিবি’র হাতে এনএসসি’র হাতে নয়। সুপ্রিম কোর্টে রায় নিজেদের পক্ষে দাবি করে বিসিবি নির্বাচনের জন্য এজিএম ঘোষণা করে। তবে মামলার বাদী স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন আইনি নোটিশ পাঠান অবৈধ গঠনতন্ত্রে বিসিবি’র বর্তমান কমিটির কার্যক্রম ও এজিএম বন্ধ করতে। তিনদিনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ না কারায় তিনি ফের আদালতে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। তারই প্রেক্ষিতে আদালত গতকাল এ রুল জারি করেন।
অক্টোবরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বিসিবি’র বর্তমান নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ। যে কারণে বিসিবি এখন নির্বাচন করতেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তারই প্রথম ধাপ ছিল এজিএম ও ইজিএম আয়োজন। আদালত অবশ্য এ নিয়ে কোনো ধরনের বাধা আরোপ না করাতে ২রা অক্টোবরই বিসিবি তাদের আয়োজন করতে পারবে বলে জানান রিট আবাদেনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক। তিনি বলেন, ‘এজিএম আয়োজনে কোনো বাধা নেই।’
অন্যদিকে বিসিবি সভাপতি এ রায়ের পর গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ আমাদের মানতেই হবে। সেখানে আমাদের কথা বলার কিছু নেই। তবে আমি এটি স্পষ্ট করে বলতে চাই আমরা যা করছি আইনের মধ্যে থেকেই করছি। আদালত বলেছে বিসিবি গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করতে পারবে। আমরা সেটিই করে এনএসসি’র কাছে জমা দেবো। তারা অনুমোদন দিলে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পারবো। তবে কবে নাগাদ এ নির্বাচন হবে তা এখন বলতে পারছি না।’

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা