বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে বিএনপি

49

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করবে বিএনপি। গতকাল সন্ধ্যায় দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এছাড়া আজ জোটের শরিক দলগুলোর মহাসচিব পর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। সন্ধ্যা ৭টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। ওদিকে আলাদা বিবৃতির মাধ্যমে একই ইস্যুতে আজ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির তিনটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন মামুন জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সারা দেশে জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ করবে জাতীয়তাবাদী যুবদল। অন্যদিকে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার দেশের সব জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আগামীকাল বুধবার দেশের সব উপজেলা, পৌর ও কলেজ ইউনিটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ওদিকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সংগঠনটি সারা দেশে জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে কাকরাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খানের নেতৃত্বে বিক্ষোভে অংশ নেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার, যুগ্ম সম্পাদক এমএ হান্নান, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও শাহবাগ থানা বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম স্বপনসহ নেতাকর্মীরা। এসময় তারা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। অন্যদিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল। ওদিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল। দুপুরে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এমএম জিলানি,  স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, সফিউদ্দিন সেন্টুসহ অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। ওদিকে বিকালে রাজধানীর শাজাহানপুর এলাকা থেকে মিছিল বের করে যুবদল। এরপর মিছিলটি খিলগাঁও ফ্লাইওভার পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে মিছিলে সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, ঢাকা মহানগর যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, সিনিয় সহ সভাপতি রিয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এদিকে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা কাঁটাবন এলাকায় সংগঠনের সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহানের নেতৃত্বে মিছিলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান পাপ্পু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইফতেখারুজ্জামান শিমুল, রজিবুল ইসলাম, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আবু ফয়সাল  জিহাদ, সহ সাহিত্য সম্পাদক পার্থ দেব মন্ডল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন।

বিভাজনের রাজনীতি আরো তীব্রতর হলো: রিজভী
চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার আগমুহূর্তে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে দেশের বিভেদ-বিভাজনের রাজনীতি আরো তীব্রতর হলো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো লন্ডনে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা শেষে তিনি যথাসময়ে দেশে ফিরবেন। তার ফেরার সময়ও প্রায় আসন্ন। আর ঠিক এই মুহূর্তে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক। এর মাধ্যমে দেশে সরকারের সৃষ্ট বিভেদ-বিভাজনের রাজনীতিকে আরো তীব্রতর করা হলো। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসে শেখ হাসিনা বলেছিলেন ‘বিএনপি’র সঙ্গে আর কোনো সংলাপ বা সমঝোতা হবে না’। শেখ হাসিনার ঐ বক্তব্যের মাঝেই চরম আক্রোশের একটা পূর্বাভাস ছিল। এখন তিনি দেশে ফিরে বিরোধী দলশূন্য বাংলাদেশ বানানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সমপ্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ওপর সরকারের যে সন্ত্রাসী আক্রমণ তার প্রথম নমুনা আজ আমরা বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষ করলাম। নিম্ন আদালতকে কব্জায় নেয়ার পর এখন গায়ের জোরে সর্বোচ্চ আদালতকে ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণে নিতে সরকার সকল ধরনের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে একক নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নিশ্চিত করতে চায়। এ জন্য বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলোকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার তা নিশ্চিহ্ন করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বাধীন স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত সর্বোচ্চ আদালতকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কব্জায় নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। সমপ্রতি পাশবিক কায়দায় সর্বোচ্চ আদালত ধ্বংসের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করছি। ক’দিন ধরে সর্বোচ্চ আদালতের ওপর সরকারের বেপরোয়া আস্ফালনে দেশবাসী বিমূঢ় ও বিস্ময়ে হতবাক। এখন সেই আস্ফালনে উৎসাহিত হয়ে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনসহ জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। যার প্রথম বহিঃপ্রকাশ হলো খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি। রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে মানসিকভাবে দুর্বল করতে সরকারের এহেন প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশলের মাধ্যমে তাকে হেনস্তার সকল অপচেষ্টা রুখে দেবে ইনশাআল্লাহ। খালেদা জিয়া ক্রান্তিকালে দেশ ও জনগণের সঙ্গে সবসময় পাশে থেকেছেন। তার বিরুদ্ধে সরকারের কোনো অশুভ পরিকল্পনা সফল হবে না। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি এ পরোয়ানা জারির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা