বেতন না দিয়ে সরকারি স্পিনিং মিল বন্ধ, বিক্ষোভ

27

প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক কাজ করেন মাদারীপুর টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলে। কিন্তু প্রায় আড়াই মাস ধরে তাঁরা বেতন পাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় শুক্রবার ওই মিল বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঋণের দায়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসন ওই মিলে তালা লাগিয়ে দেয়।

মিল বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধসহ মিলের বাইরে তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে শ্রমিক, কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটাও করে। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন।

জানা যায়, ১৫ কোটি টাকা ঋণের দায়ে সরকার এই মিলটি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার মিল বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অসহায় হয়ে পড়েন। সকাল থেকে মাদারীপুরের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মস্তাফাপুরের বড়ব্রিজ এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা। এতে প্রায় দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। মিল শ্রমিকদের একটাই দাবি, মাদারীপুর স্পিনিং মিল বন্ধ হতে দেবে না।

দুপুর দেড়টার দিকে মিলটি তালাবদ্ধ করতে গেলে পুলিশ ও শ্রমিকদের মাঝে সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ লাঠিপেটাসহ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করায় দুই পুলিশ সদস্যসহ আহত হন ২০ জন। পরে প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি শান্ত করে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ মিলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়।

কোহিনূর, মাজেদা, রহিমা, সাজেদা, মাহিনুর, সাহিনুর ওই মিলের শ্রমিক। তাঁরা বলেন, তাঁদের অনেকের স্বামী নেই। সন্তানদের পড়াশোনা করাতেই এই মিলে কাজ করেন। তাঁরা ভিক্ষা করেন না। এই সরকার শ্রমিকবান্ধব। এভাবে অসহায় অবস্থায় তাদের ফেলে দেবে না। তাঁরা এই মিল বন্ধ হতে দেবেন না।

মাদারীপুর স্পিনিং মিলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আলী আকবর বলেন, ‘আমাদের কোনো নোটিশ ছাড়া হঠাৎ করে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন মিল বন্ধ করতে বলে। আমরা অফিস থেকে শ্রমিকদের এ কথা জানালে তারা আন্দোলনে নেমে পড়ে। আমরা তো অসহায় হয়ে পড়ি। আমরা এখনো আড়াই মাসের বেতন শ্রমিকদের দিতে পারিনি। এখানে এক একটি শ্রমিক একটি পরিবার নিয়ে বেঁচে আছে। আর আমরাই বা কী করব?’

এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ জানান, মিল পরিচালকরা সরকারের পাওনা টাকা না দেওয়ায় বিটিএমসিকে ওই মিল দখলে নিতে রাষ্ট্রপতি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। এরই অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।