ব্যবধান কমাতে পারেনি বাংলাদেশ

25

পাকিস্তান লজ্জায়ও দমে যায়নি হকি প্রেমীরা। ভারতের বিপক্ষে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও নিজ দেশকে উৎসাহ যোগাতে ছুটে এসেছিল মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে। হাজার সাতেক দর্শকের উপস্থিতিও জিমি-চয়নদের খেলায় পরিবর্তন আনতে পারলো না। নিজ মাঠে চেনা দর্শকের সামনে এশিয়া কাপে আবারো তারা হতাশায় ডুবালো । পাকিস্তানের সঙ্গে ৭-০ গোলে হারের পর গতকাল ভারতের কাছে তারা হারলো একই ব্যবধানে। ভারতের ৭ গোলের পাঁচটিই হয়েছে প্রথম দুই কোয়ার্টারে। বাকি দুই কোয়ার্টারে এসেছে দুই গোল। দুটি গোল করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রিত সিং। একটি করে গোল এসেছে গুজরাত সিং, আকাশদ্বীপ, ললিত উপাধ্যায়, অমিত রোহিদাস, রানদ্বিপ সিংয়ের স্টিক থেকে।
এশিয়া কাপে এর আগে ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে থাকা ভারতের সঙ্গে ছয় সাক্ষাতে ৫০ গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ। বিপরীতে মাত্র দুটি গোল দিতে পেরেছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। গতকাল প্রথম দুই কোয়ার্টারে পাঁচ গোলে শঙ্কা জেগেছিল সর্বোচ্চ ব্যবধানে হারের লজ্জার। এর আগে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি গোলে হারে ২০০৯ সালের কুন্তন এশিয়া কাপে। ওই আসরে ১১-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত ওই লজ্জায় আর পরতে হয়নি।  এদিন ম্যাচের ৭ মিনিটেই গোল করেন গুজরাত সিং। ১১ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আকাশদ্বীপ সিং। বাংলাদেশের গোলরক্ষক এগিয়ে আসলে তাকে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান আকাশদ্বীপ। ১৩ মিনিটে মাথায় তৃতীয় গোল হয় ভারতের। এ সময় খুব কাছ থেকে গোল করেন ললিত উপাধ্যায়। তাতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথম কোয়ার্টার শেষ করে ভারত। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ২০ মিনিটের সময় অমিত রোহিদাস গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শেষ দিকে (২৮ মিনিটে) হারমানপ্রিত সিং পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোলের দেখা পেলে ৫-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ভারত। ৫ গোলের চারটিই হয় ফিল্ড গোল। তৃতীয় কোয়ার্টারে একের পর এক পেনাল্টি কর্নার আদায় করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারছিল না। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে নবম পেনাল্টি কর্নার থেকে ষষ্ঠ গোল করে ভারত। গোলদাতা রানদ্বিপ সিং। পরের মিনিটে ১২তম পেনাল্টি কর্নার থেকে দলের হয়ে সপ্তম গোল করে অধিনায়ক হারমানপ্রিত সিং। এই ম্যাচে ভারত ১৩টি পেনাল্টি কর্নারের বিপরীতে কোনো পেনাল্টি কর্নার আদায় করতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তান ম্যাচেরও কোনো পেনাল্টি কর্নার পায়নি স্বাগতিকরা। অথচ এই পেনাল্টি কর্নারের ওপর ভরসা করে দলের কৌশল সাজিয়েছেন কোচ মাহবুব হারুন। দলে নিয়েছেন তিনজন পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট। তিন পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট মামুনুর রহমান চয়ন, আশরাফুর ইসলাম ও খোরশেদ আলমকে নিয়ে গতকালও একাদশ সাজিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের কোচ। কিন্তু যাদের দায়িত্ব পেনাল্টি কর্নার আদায় করা সেই জিমি, মিমো, নিলয়রা ছিলেন একেবারে নিস্প্রভ। এ ম্যাচেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ফিটনেস ঘাটতি চোখে পরেছে। টিম কম্বিনেশনেও সমস্যা দেখছেন অনেকে। এত সব ঘাটতি নিয়েই দুই ম্যাচে ১৪ গোল খাওয়া বাংলাদেশের আগামীকালের প্রতিপক্ষ জাপান। যারা ভারতের কাছে ৫-১ গোলে হারের পর গতকাল ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান ম্যাচে। পাকিস্তানকে ২-২ গোলে রুখে দিয়ে শেষ চারে খেলার স্বপ্ন দেখছে জাপান। সেটা বাস্তবে রূপদিতে হলে আগামীকাল বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। সে ধস ঠেকাতে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ একদিনে কতটুকু  তৈরি হতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আজকের খেলা
চীন-ওমান (বিকাল তিনটা)
দ. কোরিয়া-মালয়েশিয়া
হকি স্টেডিয়াম
স্টার স্পোর্টস