ভবিষ্যতে কী হবে সময়ই বলে দেবে

35

২০০৭ সালের ২৫শে জুলাই কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক। এরপর অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে গতকালই পূর্ণ হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার দশ বছর। মাহমুদুল্লাহর লড়াই কিন্তু থামেনি। টিকে থাকার লড়াই চলছে নিরন্তর। এ বছরই শ্রীলঙ্কা সফরে তাকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। খেলানো হয়নি শততম টেস্টে। কিন্তু সব বাধা উড়িয়ে তিনি লড়াই করে গেছেন। জবাব দিয়েছেন ব্যাট হাতে। ইংল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেঞ্চুরি করে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এখনো ফুরিয়ে যাননি।
রোববার জিমে ট্রেনিং করার সময় কোমরে টান লেগেছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে দলের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার চোট পাওয়ায় কিছুটা চিন্তায় ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আপাতত চিন্তামুক্ত সবাই, বড় কোনো সমস্যা হয়নি। তবে ব্যথা কমেনি এখনো। তাই সংবাদ সম্মেলনে এসে বসলেন খুব সাবধানে। গতকাল জাতীয় দলের অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কথা বলেন মাহমুদুল্লাহ।
এত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে রিয়াদ বলেন, ‘প্রতিটি দিনই চ্যালেঞ্জের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটাই এমন যে কখনোই থিতু হতে পারবেন না। যত দিন যাবে, আপনাকে নিয়ে প্রতিটি টিম ততই ওয়ার্কআউট করবে। দুর্বলতা বের করতে চাইবে। আমি মানসিকভাবে এখন অনেক গোছানো। তাই বুঝতে পারি যে, আমার কোথায় শক্তির জায়গা, কোথায় কাজ করতে হবে।’
তার মতো বাংলাদেশের আরো বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দশ বছর পার করেছেন। দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়তে থাকাকে ইতিবাচক দিক হিসেবেই মনে করেন রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘মাশরাফি ভাই, সাকিব-তামিম-মুশফিকও ১০ বছর পার করেছে। দলের জন্য এটা একটা ইতিবাচক দিক। আমার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার বললে, এখন দায়িত্বও বেড়ে গেছে। যে কয় বছর খেলবো এই দায়িত্ব যেন আরো ভালোভাবে পালন করতে পারি। ওরাও আশা করে আরো অনেক দিন খেলবে। বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকায় আমাদের কম্বিনেশনটা এখন খুব ভালো।’
গতকাল মাঠে এসেছিলেন ফিজিওকে দেখাতে। কথা বলেছেন নিজের অবস্থা নিয়ে। কবে ফিরতে পারবেন অনুশীলনে তাও জেনেছেন তিনি। ইনজুরির পর নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আজকে (গতকাল) ফিজিও দেখলেন, বায়েজীদ পরীক্ষা করলেন; আশাকরি কাল (আজ) থেকে সাইক্লিং শুরু করবো। গত দুদিনের চেয়ে এখন অবস্থা ভালো।’
আর কতদিন খেলবেন? মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আসলে ওইভাবে চিন্তা করিনি এখনো। আমার মনে হয় ফিটনেসটা গুরুত্বপূর্ণ। ইচ্ছা আছে, নিজেকে ফিট রাখার; ফিজিক্যালি এবং মানসিকভাবে। নানা রকম বাধা থাকবে তা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। এখন খেলোয়াড় হিসেবে আছি। সেটা নিয়েই চিন্তা করছি। যেভাবে দলকে সেবা দেয়া যায়, সেটা নিয়েই চিন্তা। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা সময়ই বলে দিবে।’
দীর্ঘ এই সময়ে ভালোমন্দ, সফলতা, ব্যর্থতা সবই দেখেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। অফস্পিন অলরাউন্ডার নিজেকে দলে অপরিহার্য করেছেন- বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। দলে দিন দিন বাড়ছে অফ স্পিন অলরাউন্ডারের সংখ্যা। এরমধ্যে তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত অন্যতম। তবে এ নিয়ে বিচলিত নন তিনি। বরং প্রতিযোগিতা বাড়া দলের জন্য মঙ্গল বলে মনে হয় তার। তিনি বলেন, ‘এটা দলের জন্য ইতিবাচক। এটা আমাদের দলকে উন্নত করতে। হেলদি কম্পিটিশনটা জরুরি। এটা সব সময়ই ভালো। এটা যত বাড়বে, তত ভালো।’
পথ চলার দীর্ঘ সময়ে থাকে অনেক কিছু না পাওয়ার আক্ষেপ। রিয়াদেরও আছে এমন কিছু অপূর্ণতা। তাই বলে থেমে যেতে চান না তিনি। এখনো লক্ষ্য তার দৃঢ়। বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আসলে এত বছর ধরে খেললে তো অনেক উত্থান-পতন আছে। অপূর্ণতার কথা বললে অনেক কিছুই বলা যায়। এখন আমরা যেভাবে পারফর্ম করছি, এটা আরো কয়েক বছর করতে পারাটাই বড়। আমরা (জাতীয় দল) যখন শুরু করি, তখন ১০ নম্বরে ছিলাম। এখন টপ ফোর বা থ্রিতে থাকতে চাই।’