ভারতকে চীন, ’৬২-র পরাজয় থেকে শিক্ষা নিন

41

ভারতের উচিত ১৯৬২’র পরাজয় থেকে শিক্ষা নেয়া। আর যুদ্ধের জন্য বাগাড়ম্বর বন্ধ করা। বৃহস্পতিবার ভারতের প্রতি এমন হুঁশিয়ারি জানিয়েছে চীন। দেশটি আরো বলেছে, সিকিম অঞ্চলে বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনের পূর্বশর্ত হলো নয়াদিল্লিকে অবিলম্বে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের এক বিবৃতির জবাবে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) মুখপাত্র উ কিয়ান বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত ভারতের। ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেছিলেন, চীন, পাকিস্তান ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যুর সঙ্গে লড়তে প্রস্তুত ভারত। এ খবর দিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। বেইজিংয়ে নিয়মিত প্রতিমাসের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে উ কিয়ান বলেন, ‘এমন বাগাড়ম্বর অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। আমাদের প্রত্যাশা  ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওই ব্যক্তি ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেবেন আর যুদ্ধের জন্য  চিৎকার চেঁচামেচি করা বন্ধ করবেন।’ ব্রিফিংয়ে চীন নির্মিত নতুন ৩৫ টন ট্যাংকের প্রসঙ্গ উঠে আসে। চীন ওই ট্যাংকের পরীক্ষা চালায় তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে (টিএআর)। চীনের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, এটা ভারতীয় ট্যাংকের থেকে উন্নততর কিনা এবং চীন এটা যুদ্ধে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে কিনা।
এর জবাবে উ বলেন, ‘তিব্বতে এক ধরনের ট্যাংকের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো এটার সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা। এটা কোনো দেশের বিরুদ্ধে টার্গেট করে নয়।’ উ আরো বলেন, চীনা ভূখণ্ডে অনধিকার প্রবেশ করা ভারতীয় সেনাদের জবাব দিয়েছে পিএলএ। উ’র ভাষ্যমতে, ‘ভারতীয় সীমান্ত সেনাসদস্যরা ভারত-চীন সীমান্তের সিকিম সেক্টরে প্রবেশ করেছিল। তারা ডোংলাং অঞ্চলে চীনা সীমান্ত প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বন্ধের চেষ্টা করেছিল। আমরা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার্থে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে যথাযথ জবাব দিয়েছি।’ ডোংলাং এলাকায় চীন-ভুটান সীমান্ত দ্বন্দ্ব নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে উ বলেন, ভুটানে পিএলএ সেনাদের সক্রিয় থাকার বিষয়টি সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘চীনা সেনারা ভুটানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল- আপনার এ বক্তব্য আমাকে সংশোধন করে দিতে হবে। তারা চীনা ভূখণ্ডে কাজ করছিল। আমরা ভারতীয় পক্ষকে এ বিষয়টা একেবারে স্পষ্ট করেছি যে, তাদেরকে নিজেদের ভুল সংশোধন করতে হবে এবং চীনা ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।’
হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্টে আরো বলা হয়, ডোংলাং বা ডোকলাম এলাকাটা সরু। তবে এটা ভারত, চীন ও ভুটানের মাঝে কৌশলগত এক এলাকা। এটা চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর এর অবস্থান টিএআর-এর মধ্যে তবে এর দাবি করে ভুটান। বেইজিংয়ের সঙ্গে থিম্পুর কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দু’দেশের মধ্যে ২৪ দফায় সমঝোতা সত্ত্বেও এ সীমান্ত দ্বন্দ্ব বিদ্যমান রয়েছে।
পৃথক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘দ্বন্দ্ব নিরসনে ভারতকে অবশ্যই ওই অঞ্চল থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।’ মুখপাত্র লু ক্যাং বলেন, ‘আমরা ভারতীয় পক্ষকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার আহ্বান জানাই। ঘটনার সমঝোতা করতে এটা পূর্বশর্ত। একই সঙ্গে তা হবে অর্থবহ সংলাপ আয়োজনের ক্ষেত্র।’ ব্রিফিংয়ে ডংল্যাং এলাকার একটি মানচিত্রের ছবি দেখিয়ে লু বলেন- এটা চীনা ভূখণ্ডের অংশ। তিনি বলেন, ‘চীন-ভারত সীমান্তে সিকিম সেক্টরের স্পষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে। চীন-ভারত সীমান্তে সিকিম সেক্টরের সীমা নির্দেশকরণ সমর্থনে অকাট্য আইনি তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। সিকিম ও তিব্বত নিয়ে গ্রেট বৃটেন ও চীনের মধ্যে ১৮৯০ সালে হওয়া সমঝোতার এক অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, সিকিম ও তিব্বতের সীমানা হবে পর্বতমালার চূড়া যা সিকিম তিস্তা ও এর উপনদীতে প্রবাহিত পানি থেকে তিব্বতের মোচু ও উত্তরে তিব্বতের অন্য নদীগুলোতে প্রবাহিত পানিকে আলাদা করে।
ডোংল্যাং এলাকায় বেইজিংকে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে ভুটানের তরফে আসা রাজনৈতিক পদক্ষেপের আহ্বান নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি লু।