ভারতকে হারানোর রহস্য ফাঁস করলেন ম্যাথিউস

31

কঠিন পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের রহস্য ফাঁস করলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন দলের বাইরে ছিলেন তিনি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচ থেকে খেলার কথা ছিল তার। কিন্তু অনুশীলনে চোট লাগায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে পারেননি। ওই ম্যাচে লঙ্কানরা হারে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে পরের ম্যাচে লঙ্কান দলে ফেরেন নিয়মিত অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। তার ছোঁয়ায় যেন বদলে যায় ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা শ্রীলঙ্কা দল। গত বছর আগস্টের পর ওয়ানডে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করেছেন লঙ্কান অধিনায়ক। টুর্নামেন্টে শিরোপার জন্য হট ফেভারিট ভারতকে হারিয়েছে তারা। লন্ডনের ওভালে টস হেরে আগে ব্যাটে গিয়ে শিখর ধাওয়ানের সেঞ্চুরিতে (১২৫) ভারত সংগ্রহ কওের ৬ উইকেটে ৩২১ রান। রানের পাহাড় সামনে নিয়ে ৮ বল হাতে রেখে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। প্রায় বছরখানেক পর দলে ফেরা ম্যাথিউস ৪৫ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন। তারসঙ্গে ২১ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন আসেলা গুনারতেœ। এতে সেমিফাইনালের আশা উজ্জ্বল করেছে শ্রীলঙ্কা। নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারালেই শেষ চারের টিকিট কাটবে তারা। ফর্মের তুঙ্গে থাকা ভারতের বিপক্ষে বড় রান সামনে নিয়েও এমন জয়ের রহস্য ফাঁস করলেন অধিনায়ক ম্যাথিউস। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ ছিল। আপনারা জানেন, কেউ-ই এই ম্যাচে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা দেখেনি। আমাদের ওপর অনেক চাপ ছিল। কিন্তু আমরা নিজেদের ওপর থেকে চাপ দূরে সরিয়ে রাখি। আর আপনি যখন চাপমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে খেলবেন তখন অনেক ভাল খেলতে পারবেন। ভারতের বিপক্ষের এই জয়ে দলের সবার সমান অবদান।’ লঙ্কা-ভারত ম্যাচের উত্তেজনা বর্ণনা দিতে গিঢে ম্যাথিউস বলেন, ‘মনে হচ্ছিল, আমরা বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলছি। মাঠ ভর্তি দর্শক। দারুণ পরিবেশ। আমরা জানি- ভারতের অনেক সমর্থক খেলা দেখতে সফর করেছে। তারা তাদের দলকে সমর্থন দিয়ে গেছে। গ্যালারিতে আমাদের দর্শক তূলনামূলক কম ছিল। কিন্তু তারা যেভাবে সমর্থন দিয়ে গেছে তা অসাধারণ। তাদেরকে অনেক ধন্যবাদ।’ তিনি আরো বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার মানুষ খুবই আমুদে। তারা আনন্দ পছন্দ করে। এই জয়ের মাধ্যমে মানুষকে খুশি করতে পেরে আমরা নিজেরাও খুশি। বিশেষকরে আমাদের দেশে সম্প্রতি বন্যায় অনেক মানুষ মারা গেছে। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। তাদের মুখে একটু হাসি ফুটাতে পারলেও আমরা স্বার্থক।’