ভারতের অধিনায়ক কে- ধোনি না কোহলি?

42

প্রশ্নটা হয়তো কেমন হয়ে গেলো। মহেন্দ্র সিং ধোনি ভারত ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব ছেড়েছেন অনেক আগে। দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিরাট কোহলি। ভারতের তিন ফরমটের অধিনায়ক তিনি। টেস্ট থেকে অবসর নিলেও ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরমেটে খেলে যাচ্ছেন ধোনি। বিরাট কোহলির অধীনেই খেলছেন তিনি। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেলছেন তিনি। কিন্তু ভারত কি আসলে ধোনির ‘নেতৃত্ব’ থেকে বের হতে পেরেছে? প্রশ্নটার কারণ, মাঠে তার সরব উপস্থিতি ও সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের উইকেটের পেছনে দাঁড়ান মহন্দ্র সিং ধোনি। সেদিন তার কিছু কাজ দর্শকদের চোখে বেশ পড়েছে। অধিনায়ক কোহলি মাঠে থাকতে তিনি উইকেটে পেছনে দাঁড়িয়ে ফিল্ডারদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। দলের খেলোয়াড়দের মনোযোগও ছিল তার দিকে। ভারতের বাঁচা-মরার ওই ম্যাচে সেদিন ধোনির কাজগুলো ছিল স্পষ্ট অধিনায়কসূলভ। এবার আসি, বাংলাদেশের বিপক্ষের সেমিফাইনালের কথায়। এই ম্যাচেও অধিনায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ধোনি। ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিজে স্বীকার করলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ম্যাচের তখন ২৮তম ওভারের খেলা চলছে। ক্রিজে জমে গিয়েছেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। শতরানের জুটি গড়ে তারা ভারতীয় বোলারদের ওপর তা-ব চালাচ্ছেন। এ সময় সবাইকে অবাক করে দিয়ে কেদার যাদবের হাতে বল তুলে দেন কোহলি। প্রথম ওভারেই বাজিমাত করেন তিনি। ভয়ঙ্কর হতে থাকা তামিম ইকবালকে (৭০) বোল্ড করে ফেরান তিনি। ওই স্পেলেই এরপর ফেরান ৬১ রান করা মুশফিকুর রহিমকে। ওই দুই উইকেট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওপর এবার ভারতীয় বোলাররা ছড়ি ঘুরাতে শুরু করে। তখন হঠাৎ করে কোহলি কেন কেদার যাদবকে বোলিংয়ে আনেন তার ব্যাখ্যা দিলেন ম্যাচ শেষে। ধোনির পরামর্শেই তিনি তখন কেদারকে বোলিংয়ে আনেন। বিষয়টি অকপটে স্বীকার করলেন কোহলি। বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশ) যেভাবে ব্যাট করছিল তাতে আমরা বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। রান আটকানো যাচ্ছিল না। তখন অন্যরকম কিছু একটা করতে হতো। তখন কেদারকে বোলিংয়ে আনা হয়। এই বোলিং পরিবর্তনের জন্য আমি পুরো কৃতিত্ব নেবো না। কারণ, ধোনি তখন কেদারকে বলে আনার পরামর্শ দেন আমাকে। আমরা দু’জন মিলেই তখন সিদ্ধান্তটা নিই। আর কেদারের দু’টো উইকেট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।’