ভারতের সঙ্গে ঋণচুক্তি মঙ্গলজনক নয়: বিএনপি

24

লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় সমপ্রতি ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সাড়ে ৪০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি  দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয় বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, অতীতে ভারতের সঙ্গে ঋণচুক্তিতে কঠিন শর্ত আরোপ করায় প্রকল্পগুলো এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৬ সালে চুক্তি হওয়া দ্বিতীয় ঋণের ২০০ কোটি ডলার এখনো ছাড় হয়নি। আর প্রথম ঋণের ১০০ কোটি ডলারের মধ্যে সাত বছরে ছাড় হয়েছে মাত্র ৩৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ভারতের সঙ্গে ঢাকঢোল পিটিয়ে আবারো কঠিন শর্তে যে ঋণ চুক্তি করা হয়েছে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। গতকাল দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ঋণচুক্তির যে নানা শর্ত, এই শর্তে দুই দেশের মধ্যে এক দেশ থেকে ঋণ নিয়ে স্বাধীনভাবে সেই দেশের কাজ করার যে জায়গাটা নেই। মনে হচ্ছে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে কঠিন শর্ত। বিভিন্ন দেশের ঋণের তুলনায় ভারতের এই ঋণের শর্ত বেশি এবং পরিশোধের সময়সীমাও কম। পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে এটি স্বস্তিকরও নয়। ঋণের অর্থে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় এবং পরোক্ষভাবে সুদের হারও বেড়ে যাবে। দিল্লি সফররত পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ তিনি বলেন, পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন- সার্বভৌমত্বের নামে আমরা অন্যদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবো না। তার এই বক্তব্যে আমাদের বিস্মিত ও হতবাক করেছে। পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য দেশের ভোটারবিহীন সরকারের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার নীতিরই প্রতিফলন বলে আমরা মনে করি। তিনি বলেছেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে গুণ্ডামির মাধ্যমে জোর করে এক মাসের ছুটি দেয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার এটি প্রথম পদক্ষেপ। এখন নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সব বিভাগের ওপরই একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল শেখ হাসিনার। রিজভী বলেন, মানুষের বিচার প্রার্থনার শেষ আশ্রয়স্থলটুকু আর থাকলো না। জনমনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে- এর ফলে আগামী দিনের সকল রায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই নিয়ন্ত্রণ হবে। কারণ প্রধান বিচারপতিকে হুমকি দিয়ে ছুটি নিতে বাধ্য করা অথবা ছুটির নামে জালিয়াতি করা হয়েছে সেটি নজিরবিহীন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে যেভাবে নাজেহাল করা হয়েছে, যেভাবে বিচার বিভাগের সম্মান, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি নস্যাৎ হয়েছে তাতে বিচার বিভাগের সম্মান ও ভাবমূর্তি বলে কিছু অবশিষ্ট রইলো না। এই সরকারের দুঃসহ দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে সকলে মিলে সোচ্চার না হলে ভবিষ্যতে বিরোধী দল, মত ও বিশ্বাসের লোকদেরসহ ন্যায় বিচার পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনাই থাকবে না। রিজভী বলেন, সরকারের নিষ্ঠুর প্রতিহিংসার শিকার হবে সরকার-বিরোধীরা। দেশকে স্থায়ী দুঃশাসনের বজ্র আঁটুনিতে বেঁধে ফেলা হলো। কোনো সন্দেহ নেই- বিচার বিভাগের ওপর আরো নগ্ন হস্তক্ষেপ করে ন্যায়বিচারের পথকে চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, একজন সুস্থ ব্যক্তিকে অসুস্থ বানিয়ে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ইতিহাস আওয়ামী লীগের অনেক পুরনো। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হককে পাগল বানানো হয়েছিল। এরপর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকেই অসুস্থ বানিয়ে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা বিলকিস জাহান শিরিন, সানাউল্লাহ মিয়া, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মুনির হোসেন, আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা