ভারত সফরে বাংলাদেশের ৩৭ বিচারক বাংলাদেশেও সেখানকার মতো বিচার ব্যবস্থা দেখতে চান

53

ভারতের চন্ডিগড়ে বিচারের ধরণ ও কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন বাংলাদেশের ৩৭ জন বিচারকের একটি দল। তারা মঙ্গলবার চন্ডিগড় ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। আলোচনা করেন বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এ সময় তারা সেখানকার প্রযুক্তি নির্ভর বিচার ব্যবস্থা বাংলাদেশে দেখার আশা প্রকাশ করেন। এ খবর দিয়ে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, বাংলাদেশী বিচারকদের এই টিমটি সেখানে প্রশিক্ষণের জন্য আরো এক সপ্তাহ অবস্থান করবেন। এতে বলা হয়, চন্ডিগড় কোর্টের বিচারের কার্যক্রম দেখে বাংলাদেশী বিচারকরা এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

‘বাংলাদেশ জাজেস ওয়ান্ট কোর্টস লাইক ইউটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশী এসব বিচারক চন্ডিগড়ের বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ভারতে বিচার ব্যবস্থা কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে তারা জানতে চান। তারা কোর্টের লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন করেছেন শিশুদের সাক্ষ্য দেয়ার আদালত। কিশোর অপরাধীদের বিষয়ে মামলা পরিচালনার জন্য স্পেশাল কোর্টের কার্যক্রমে তারা প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশী এসব বিচারককে একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি বিচার কার্যক্রম উপস্থাপন করে দেখানো হয়। এতে দেখানো হয় বিচারিক কার্যক্রমে কিভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। এভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচার কার্যক্রম চালানোতে সময় বাঁচে এবং মানব সম্পদও কম লাগে। এ সফরের সময় তাদেরকে দেখানো হয় কিভাবে কেন্দ্রীয় ট্রাফিক চালান সিস্টেম কাজ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরে থাকা বাংলাদেশী বিচারকরা দেখতে পান চন্ডিগড় ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট কতটা আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর। এই প্রতিনিধি দলে আছেন বাংলাদেশের বিচারক সালমা আখতার। তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, এখানকার বিচার ব্যবস্থা আধুনিক মানের ও বাস্তবধর্মী। চন্ডিগড়ে এই সফরের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। আরেকজন বিচারক তরুণ ভাস্কর বলেছেন, এখানকার আদালতগুলো অত্যাধুনিক। পুরো ডিস্ট্রিক্ট কমপ্লেক্সটি প্রযুক্তি নির্ভর। এখানে রয়েছে ভিডিও কনফারেন্সের সুবিধা। আছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্পিকার। আছে শিশুদের জন্য স্পেশাল সাক্ষ্য দেয়ার আদালত। এতে দীর্ঘমেয়াদিী শুনানিতে ছোট ছোট বাচ্চারা রেহাই পায়। তাদের বক্তব্য রেকর্ডকালে তারা সাবলীলভাবে কথা বলে। বিচারক হাবিবুল্লাহ মোহাম্মদ বলেছেন, শিশু ও কিশোর বিষয়ক আদালতের ছাড়াও যাদের ভিন্নভাবে প্রয়োজন তাদের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে দেখা হয়। এই প্রক্রিয়া আমাদের দেশে বাস্তবায়ন হোক এমনটা আমরা আশা করি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা