ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

30

ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার ভাঙন চলছে বিরামহীন গতিতে। কবে থামবে এ ভাঙন। গ্রামের পর গ্রাম সব শেষ করে দিচ্ছে। প্রায় ১০০ বছর থেকে গিলে খাচ্ছে চিলমারী। ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা দু’দিক থেকে গিলে খাচ্ছে উপজেলাটি। ফলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী উপজেলাটি। ভাঙনকবলিত তীরের মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে উপজেলা সদর। ভিটামাটি হারিয়ে আজ অনেকে নিঃস্ব। অনেকে পাড়ি জমাচ্ছে অজানার উদ্দেশ্যে। নয়ারহাট ও অষ্টমীরচর এলাকায় ছবি তুলতে গেলে ভাঙনকবলিত মানুষজন প্রশ্ন ছুড়ে দেন বলেন তোমরা ক্যাডা বাহে ভাঙ্গার ছবি তুলছেন কে পেপারোত দিবেন ভালো করে দেন বাবা হামরা বাঁচবের চাই সরকারোক কয়া কিছু করেন বাহে নদী হামার সব ভাঙ্গি নিয়ে গেছে হামাক সর্বস্বান্ত করে দিছে। ঘরবাড়ি ভিটেমাটি হারাইয়া কত মানুষ পাগল হইয়া গ্যাছে বলছিলেন প্রায় ৩০ বার নদী ভাঙনের শিকার অষ্টমীরচরের রস্তম আলী (৬৫)। দুঃখের সঙ্গে তিনি আরো বলেন ‘পর পর প্রায় ৩০ বারের মতো ভাঙনে আমার বাড়ি ঘর ভাইঙা নেওয়া
লাগছে। এহন আমার বাড়ির ভেটা পর্যন্ত নাই। মাইনসের জমিতে ভাড়া দিয়ে ঘর তুইলা আছি। শুধু বক্কর আলী নয় তার মতো ব্রহ্মপুত্র নদের তীর জুড়ে হাজারো মানুষের অসহায় কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে এবার পানি কমা বাড়ার সাথে সাথে ব্রহ্মপুত্র ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। কয়েক কি. মি. জুড়ে চলছে এই ভাঙনের তাণ্ডবলীলা। নয়ারহাট এলাকার মাহফুজার জানায় পলকে ভাঙছে বাড়ির পর বাড়ি, ভিটার পর ভিটা, জমির পর জমি গত কয়েক দিনের মধ্যে এলাকার শত শত বাড়িঘর, মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে পরিবারগুলো গৃহহীন হয়ে পড়েছে অধিকাংশ পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত নেই। ইতিমধ্যে চিলমারী রক্ষা ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ধস। আর এই ধস দেখা দেয়ায় আবারো নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে উপজেলাবাসীর মধ্যে। যেহারে ভাঙনের তাণ্ডবলীলা চলছে তা এখনই প্রতিরোধ করা না গেলে চিলমারী উপজেলাসহ শত শত কোটি টাকার নির্মিত ব্রহ্মপুত্র রক্ষা প্রকল্প এক সময় হয়তো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে জানালেন এলাকার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ নজরুল ইসলাম। বর্তমানে ওয়াপদা বাঁধ, পাকা রাস্তাসহ হুমকির মুখে উপজেলা সদর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে গত কয়েকদিনে ভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১ হাজার পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মির্জা মুরাদ হাসান বলেন, ইতিপূর্বে ভাঙনকবলিত মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বরাদ্দ এলে আবারো বিতরণ করা হবে।