ভিশন-২০৩০ নিয়ে মতামত সংগ্রহ করছে বিএনপি

25

নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করেছে বিএনপি। ‘ভিশন ২০৩০’-এর মাধ্যমে আগেই প্রাথমিক প্রস্তুতি সেরে রেখেছে তারা। এখন নানা শ্রেণি-পেশার   পৃষ্ঠা ৪ কলাম ২
মানুষের মতামত ও প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনার মাধ্যমে শুরু করেছে দ্বিতীয় ধাপের প্রস্তুতি। ভিশন-২০৩০-এর মধ্যে যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে নেয়া হচ্ছে খাতওয়ারী স্টেকহোল্ডার ও বিশেষজ্ঞদের মতামত। রূপকল্প ২০৩০ ছাড়াও বিবেচনায় নেয়া হবে বিএনপির ষষ্ট জাতীয় কাউন্সিলে দেয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য এবং বিগত নির্বাচনের জন্য তৈরি ইশতেহার। বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামে উত্থাপনের জন্য সংযোজন-বিয়োজনের সুনির্দিষ্ট পরামর্শসহ একটি প্রতিবেদন তৈরি করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যের তত্ত্বাবধানে চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বিষয়টি সমন্বয় করছেন। দলের নেতা, থিঙ্কট্যাংক এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ টিম সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। তবে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ইস্যুটি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ইশতেহারের চূড়ান্ত রূপ দেবে না বিএনপি। সবার আগে নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক’ সরকারের রূপরেখা প্রণয়নেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। বিএনপি থেকে সর্বোচ্চ সেক্রিফাইজ করে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দেয়া হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঈদুল ফিতরের পরপরই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই রূপরেখা ঘোষণা করবেন।
ইশতেহার প্রণয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নেতা বলেন, ভিশন ২০৩০ প্রকাশের পর বিদেশি কূটনীতিকসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিক্রিয়া ও মতামত সংগ্রহ করেছে বিএনপি। সেগুলো দলের থিঙ্কট্যাংকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভিশন ২০৩০-এর আলোকে অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনসহ প্রতিটি খাতওয়ারী মতামত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। মতামত ও পরামর্শ নেয়া হচ্ছে সাবেক আমলা, সচিব, সাবেক সেনা-নৌ-বিমান, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাদের। দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, এম কে আনোয়ার, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, থিঙ্কট্যাংকের মধ্যে প্রফেসর ড. মাহবুবউল্লাহ, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, প্রফেসর খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহসহ অনেকেরই সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে। দলের থিঙ্কট্যাংক মতামতগুলোর পর্যালোচনা শেষে করণীয়সহ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা চেয়ারপারসনের কাছে তুলে ধরবেন। ইশতেহার প্রণয়ন টিমের একজন সদস্য জানান, সম্প্রতি শিক্ষা নিয়ে একটি সেমিনার করেছে বিএনপি। ওই সেমিনারে নতুন কিছু পরামর্শ ওঠে এসেছে। একইভাবে স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থনীতিসহ অন্যান্য বিষয়েও কিছু সেমিনার করবে বিএনপি। সবগুলোতেই উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখানে উঠে আসা পরামর্শগুলো যুক্ত করা হবে নির্বাচনী ইশতেহারে। তবে নির্বাচন ইস্যুটির একটি সন্তোষজনক সুরাহা হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার তৈরি করা হবে। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, সরকারের কর্মকাণ্ড ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য দিচ্ছে তা নজরে রাখছে বিএনপি। ভোটের রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কৌশল পর্যালোচনা একটি বড় কাজ। এতে যে কোনো বিষয়ে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। তাই আওয়ামী লীগ কোন পথে আগামী নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে চায় সেটা পর্যবেক্ষণে রাখছে বিএনপি।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশবাসীর উদ্দেশে ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকাশ করেছে বিএনপি। সেখানে আমরা বলেছি, ক্ষমতায় গেলে কি কি করতে চাই, কিভাবে দেশ পরিচালনা করতে চাই। ভিশন ২০৩০ যদি আমাদের রূপকল্প হয় তাহলে তো এটার আলোকেই ইশতেহার তৈরি হবে। সে হিসাবে বলা যায়, আমাদের ইশতেহার তো তৈরি হয়েই আছে। তবে এটা বাস্তবায়নের জন্য ক্ষমতায় যেতে হবে এবং সে জন্য নির্বাচন প্রয়োজন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায়ই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচন আদায় এবং অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের পর চূড়ান্ত ইশতেহার। ইশতেহার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহার এখনই চূড়ান্ত করার সুযোগ নেই। কারণ, সহায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির মেরূকরণ ঘটতে পারে। সেই মেরূকরণের প্রেক্ষিতে পাল্টে যেতে পারে অনেক বিষয়। তাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে ইশতেহার চূড়ান্ত করার সুযোগ নেই। কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, ইশতেহার প্রণয়নের বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি ও অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হলে এ রূপকল্পকে সামনে রেখে সেটা চূড়ান্ত করা হবে। এখানে খুব বেশি নতুন কিছু থাকবে না। কেবল রূপকল্পে উল্লেখিত বিষয়গুলোতে দুইভাগ করা হবে। নিকট বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলোকে ফোকাস করে ও প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হবে ইশতেহার। নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত হলেই এটির আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়া হবে। তবে সময় ও যুগের চাহিদা ও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে সামনে রেখে দেশীয় অর্থনীতি, শিক্ষা, যোগাযোগসহ নানা বিষয় মিলিয়ে দেশকে গণতান্ত্রিক ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে যা কিছু প্রয়োজন তার সবই থাকবে ইশতেহারে।