ভিসা না পেয়ে অনুশীলনে সাকিব

33

শনিবার রাতেই নিশ্চিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশ্যে উড়ার কথা সাকিব আল হাসানের। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ভিসা লাগানোর পাসপোর্টটি হাতেই পাননি। কী আর করা তাই গতকালও চলে আসেন অনুশীলনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে সময় মতো যেতে না পারাতে তার কোনো আক্ষেপ নেই। মিরপুরে এসে অনুশীলন আর সিপিএলে যাওয়া নিয়ে তেমন কোনো পার্থক্য দেখেন না জাতীয় দলের এই সেরা ক্রিকেটার। ক্রিকেট মিরপুরে হোক আর পৃথিবীর অন্য কোথাও হোক বেশ রোমাঞ্চ নিয়েই তিনি তা উপভোগ করেন। অনুশীলন শেষে সাকিব বলেন, ‘মজা ‘তো লাগেই। প্রতিটি টুর্নামেন্টেই নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হয়। মজা থাকে, রোমাঞ্চ থাকে। গত ১২-১৫ বছর ধরে ক্রিকেটই খেলছি। প্রতিদিনই মাঠে আসি রোমাঞ্চ নিয়ে। এখানে খেলি বা অন্য জায়গায়, যেখানেই খেলি, মজাই লাগে। এই মজার কারণেই খেলি।’
তবে সব মজার মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকেই। বিশেষ করে সাকিব সিপিএলকে আলাদা ভাবে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘অন্য টুর্নামেন্টের চেয়ে এটার পরিবেশ-আবহ অন্য রকম। জায়গাগুলো খুব সুন্দর। খেলার সিরিয়াসনেসটা মাঠেই বেশি। মাঠের বাইরে তেমন কোনো ব্যাপার নেই। সবাই রিলাক্স থাকতে পছন্দ করে। সে দিক থেকে বলতে গেলে অনেক বেশি উপভোগ করি।’ আবার আইপিএলেও তিনি আরেক রকম ভাবে উপভোগ করেন। বলেন, ‘আইপিএলে হয় কি, সেখানে প্রতি দলের স্কোয়াডে দেখা যায় ১০ জন বিদেশি খেলোয়াড় থাকে। সেখানে প্রতিযোগিতাটা বেশি, কোন চারজন খেলবে। অনেক সময় ভালো খেলেও পরের ম্যাচে কম্বিনেশনের কারণে খেলা যায় না। সিপিএল বা পিএসএলে, বিদেশি মোটামুটি চূড়ান্তই থাকে কারা খেলবে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তারা পরিবর্তন করে না। এছাড়া আর কোনো পার্থক্য আমি দেখি না। সব জায়গায় পরিবেশ এবং খেলার মান ভালোই।’
সাকিব ছাড়াও এবার সিপিএলে খেলছেন টাইগারদের তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। সাকিব জানিয়েছেন যদি দেশের খেলা না থাকতো আর টুর্নামেন্টের ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকতো তাহলে বাংলাদেশের আরো কয়েকজনকে দেখা যেত সিপিএলে। তিনি বলেন, ‘আমি তো নিশ্চিত যে, এ বছর যদি পুরো টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ থাকতো, তাহলে আরো দুই-একজন যেতে পারতো। দুই-একজনের নামও বলাবলি হচ্ছিল। কিন্তু আমাদের তো খেলা আছে। টাইমিং চূড়ান্ত থাকে না। ওখানকার দলগুলোর জন্য আমাদেরকে নিতে তাই ঝামেলা হয়ে যায়। কারণ পরে যদি বলা হয়, কোনো দল আসবে, আমাদের ফিরতে হবে। আমাদের জন্য দল পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।’
অন্যদিকে বাংলাদেশকে নিয়ে এখন অন্যদেশ গুলোর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে বলে জানান সাকিব। আগে সাকিবকে ছোট দেশের বড় তারকা বলা হতো। এখন সেই ধারণা বদলে গেছে। সাকিব বলেন, ‘এখন তো অন্য রকম কথাবার্তা হয়। আমাদের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানতে চায়। অনেক ক্রিকেটারের কথা জিজ্ঞেস করে। ‘অমুক কেমন করছে’ এসব জানতে চায়। দল হিসেবে আমরা কিভাবে এত ভালো করছি, এত ওপরে ওঠার কারণ কী, সে বিষয়ে প্রশ্ন করে। আমরাও সেভাবে কথা বলতে পারি। মনে হয় যে, বড় দলের খেলোয়াড়ের মতো কথা বলার সুযোগ আছে।