ভূমিধস বিজয়ের পথে এমানুয়েল ম্যাক্রনের দল

28

ফ্রান্সে পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রনের দল ভূমিধস বিজয়ের পথে। রোববার প্রথম দফা নির্বাচনের পর এমন পূর্বাভাষ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে তার প্রতিষ্ঠিত দল লা রিপাবলিক এন মার্চে (এলআরইএম) এবং মিত্র মোডেম মিলে ৫৭৭ আসনের পার্লামেন্টে ৪৪৫ আসন পেতে যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে আগামী রোববার দ্বিতীয় দফা ভোটের পর। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন তার দল প্রতিষ্ঠা করেন এক বছরের সামান্য সময় আগে। তা ছাড়া তিনি নির্বাচনে যেসব প্রার্থী দিয়েছেন তাদেরনেই কোন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। এমনকি তারা ভোটারদের কাছে খুব কমই পরিচিত। রোববার অনুষ্ঠিত ভোটে ম্যাক্রনের এল আরইএম ও মোডেম মিলে মোট ভোটের ৩২.৩ শতাংশ পেয়েছে। মধ্য-ডানপন্থি রিপাবলিকানরা শতকরা ১৬ ভাগের কিছুটা কম ভোট পেয়েছে। ম্যাক্রনের আগে ক্ষমতাসীন স্যোশালিস্ট পার্টি জিতেছে শতকরা মাত্র ৭.৪ ভাগ ভোট। ম্যারিন লা পেনের উগ্র-ডানপন্থি ন্যাশনাল ফ্রন্ট পেয়েছে শতকরা ১৩.২ ভাগ ভোট। এর পরে রয়েছে উগ্র-বামপন্থি ফ্রাসন্স আনবোয়েড পার্টি। তারা পেয়েছে শতকরা ১১ ভাগের কিছু বেশি ভোট। প্যারিস থেকে বিবিসির সাংবাদিক হিউ স্কফিল্ড বলছেন, নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন ব্যতিক্রমী জয় পেতে যাচ্ছেন এ নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। এখন ফ্রান্সের রাজনৈতিক মানচিত্র নতুন করে রচিত হবে। যদি প্রথম দফা ভোটের প্রজেকশন বা পূর্বাভাস টিকে থাকে তাহলে ফ্রান্সের পার্লামেন্টের বড় একটি পরিবর্তন আসবে। কয়েক শত নতুন এমপি পার্লামেন্টে পা রাখবেন, যারা এর আগে কখনো সেখানে প্রবেশ করেন নি। এমনকি প্রবেশ করার ইচ্ছাও ছিল না। ওদিকে দলের বড় সফলতায় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল। তিনি ফ্রান্সের নির্বাচন সম্পর্কে টুইটে লিখেছেন, এটা ছিল সংস্কারের ভোট। গত মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ন্যাশনাল ফ্রন্ট দলের প্রার্থী ম্যারিন লা পেনকে পরাজিত করেন ৩৯ বছর বয়সী ম্যাক্রন। কিন্তু তিনি ওই নির্বাচনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে হলে পার্লামেন্টে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার। নির্বাচনে সেদিকেই যাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে নিজের একটি ভাবমূর্তি গড়ে নিতে পেরেছেন তিনি। নির্বাচনী পূর্বাভাস ঘোষণার পর সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ভোটাররা জানান দিয়েছেন তারা বড় ধরনের সংস্কার চান। তবে রিপাবলিকান দলের ফ্রাঁসোয়া বারোন বলেছেন, নির্বাচনে ভোট পড়েছে অনেক কম। এতে ফ্রান্সের সমাজে বিভক্তি দেখা দেবে। দেখা দেবে চরম উৎকণ্ঠা। এত কম ভোট পড়ার জন্য দলের দুর্বল পারফরমেন্সকে দায়ী করেছেন লা পেন।