মওদুদের বাড়ি দখলে নিলো রাজউক

35

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গুলশান-২ এর বাসভবন দখলে নিয়েছে রাজউক। গতকাল দুপুর ২টার দিকে ৭৯ নম্বর সড়কের ১৫৯ নম্বর প্লটের এই বাড়িতে অভিযান শুরু করে রাজউকের অঞ্চল-৫ এর পরিচালক ওয়ালিউর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসির উদ্দিনের নেতৃত্ব একটি দল। উচ্ছেদ অভিযানের শুরুতেই বাড়িটির পানি, গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় মওদুদ আহমদ বাড়িতে ছিলেন না। পরে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে  আসেন। বাড়িতে ঢুকতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। তিনি ঘটনাস্থলে আসার আগেই বেশকিছু মালামাল বাইরে বের করে রাজউকের ট্রাকে তোলে কর্মচারীরা। এদিকে মওদুদ আহমদ আসার পর ওই সব মালামাল পাশের ৫১নং সড়কের ২নং প্লটের ৬ তলা ভবনের ৫ তলার একটি ফ্লাটে স্থানান্তর করা হয়। এই ফ্লাটটি মওদুদ আহমদের নিজের। এ ছাড়া মালামাল রাখার জন্য ৮৪নং সড়কের একটি ফ্ল্যাটের কক্ষ ভাড়া করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অন্যদিকে রাজউকের এই বাড়ি দখলকে বেআইনি উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেছেন, বিরোধী দলের নেতা হওয়ার কারণেই সরকার সম্পূর্ণ গায়ের জোরে বাড়িটি দখল করেছে। এ ব্যাপারে রাজউক কোনো ধরনের কাগজপত্র বা আদালতের নোটিশ দেখাতে পারেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।  মওদুদ আহমদকে এ বাড়িটি ছাড়তে আপিল বিভাগের দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে দেন গত ৪ঠা জুন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ।
রাজউকের অঞ্চল-৪ এর অথরাইজড অফিসার আদিলুজ্জামান বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী দুপুরের পর থেকে আমরা ওই বাড়িটিতে অভিযান শুরু করি। বাসার পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। রাজউক কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান জানান, তারা এই বাড়ির মালামাল বের করে ট্রাকে করে গুলশান-২ এর  ৫১ নম্বর সড়কে অবস্থিত মওদুদ আহমদের অপর একটি ফ্ল্যাটে  পৌঁছে দিয়েছেন। ওই সড়কের ২ নম্বর প্লটে কনকর্ড প্যানারোমা নামে ৬ তলা ভবনটির ৫ম তলাটি মওদুদ আহমদের নিজের ফ্ল্যাটে মালামালগুলো পৌঁঁছে দেয়া হয়। তিনি বলেন, এটি রাউজকের সম্পত্তি। আদালতের আদেশে রাজউক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। মালামাল সরানোর পর আপাতত এটি তালাবদ্ধ করে রাখা হবে। সেখানে পুলিশ পাহারা থাকবে। এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে আসেন মওদুদ আহমদ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। কোনো সভ্যতা নেই। তাদের কাছে কোনো নোটিশ নাই। তারা জোর করে ঢুকে গেছে। এরপর রাজউকের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ সময় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বলেন, আমরা তো আইনি ব্যাখ্যা জানি না। আইনে কি হয়েছে সেটাও জানি না। তবে এটা জানি উনি (মওদুদ) এখানে ছিলেন, এখন এখান থেকে তাকে বের করে দেয়া হচ্ছে। মোশাররফ ছাড়াও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে সহানুভূতি জানাতে সেখানে যান বিএনপির সিনিয়র নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জাসাস নেতা বাবুল আহমেদ প্রমুখ।
এরপর ৫টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে বের হয়ে আসেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ সময় তিনি আবারো সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, বাড়িটি বেআইনিভাবে দখলে নিয়েছে। ৩৬ বছর আমরা এখানে থেকেছি। আইন বলে দেয় কিভাবে উচ্ছেদ করতে হবে। আদালতের নির্দেশ নেই। কোনো নোটিশও নেই। তাহলে কীভাবে উচ্ছেদ করে? তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কোনো নোটিশ পাইনি। আমাদের বলা হয়নি যে, এই সময়ের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। মওদুদ বলেন, তারা নোটিশ দিতে পারে না এইজন্য যে রাজউকের পক্ষে কোনো আইন নেই। এই বাড়ি ব্যক্তিগত বাড়ি। এটা সরকারের বাড়ি নয়। আপিলেট ডিভিশন রায়ে বলে দিয়েছে। এই বাড়ির আদি মালিক যিনি ছিলেন তিনি এখন মৃত। তার সন্তান রয়েছে। তার সন্তানই হলো এটার উত্তরাধিকারী। আমরা গতকাল (মঙ্গলবার) একটি মামলা করেছি। রাজউক ও সরকারের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। মামলা নং ৫৬১। দেওয়ানি মামলা। আজকে (বুধবার) প্রথম জজ আদালতে রাজউক এবং সরকারের বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছে। আগামী ১৯শে জুলাই তাদের জবাব দিতে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। সেই আইনি প্রক্রিয়ার সবকিছু উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িটি দখল করা হয়েছে। আজকে আমাকে আমার গৃহ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। অতি অল্প সময়ের জন্য আমাকে ভেতরে যেতে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আমার অজস্র বই রয়েছে। আমার পুরো লাইব্রেরি ঘর। আমার হাজার হাজার বই এখানে রয়েছে। এগুলো অনেক মূল্যবান সম্পদ। বইগুলো দেখে আসলাম। এই বইগুলো মেঝেতে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
মালামালগুলো তার একটি ফ্ল্যাটে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মালামালগুলো কীভাবে নিয়ে যাচ্ছে আপনারা তো দেখছেন। আমরা বলেছিলাম ঠিক আছে, আমরা নিয়ে যাবো। আমাদের সুযোগ দেন। আমরা সুন্দরভাবে নিয়ে যায়। কোন জিনিসটা কোথায় যাবে কতটুকু যাবে। এগুলো ৫০ বছরের সঞ্চয়, আরো বেশি। এগুলো অনেক পুরনো স্মৃতি। এ সময় মওদুদ আহমদ আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। এখানে অনেক রাজনৈতিক ঘটনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী এই বাসভবনে ছিলেন। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বাসভবনে ছিলেন। এবং আরো অনেক গণ্যমান্য নেতারা এবং বিশ্বের নামিদামি মানুষ এ বাসভবনে ছিলেন। এ বাড়ির সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িত আমার। আজকে রাজউক কোনো কাগজ দেখিয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মওদুদ আহমদ বলেন, কোনো কাগজ দেখায় নাই, কোনো নোটিশ দেখাতে পারে নাই। কোনো নোটিশ ছাড়াই তারা এখানে এসেছে। আদালতেরও কোনো নির্দেশ নাই। কোনো নোটিশও নাই। একেবারে জোরপূর্বক তারা আজকে এই বাড়ি দখল করেছে। এখন কোথায় যাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আমাকে রাত্রে এখানে থাকতে দেবে না। সুতরাং কোনো একটা আশ্রয় আমাকে খুঁজে নিতে হবে।
এদিকে মওদুদ আহমদের এ বাড়ি ছাড়তে আপিল বিভাগের দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে গত ৪ঠা জুন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ রায় দেন। আপিল বিভাগের এই রায়ের ফলে সরকারি বাড়ি আত্মসাতের মামলা থেকে রেহাই পেলেও মওদুদ আহমদকে গুলশানের ওই বাড়ি ‘ছাড়তেই হবে’ বলে ওই দিন জানান  অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরও ওই দিন গুলশানের ওই বাড়ি না ছাড়ার ঘোষণা দেন মওদুদ আহমদ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাড়ি ছাড়ব না। আদালতের আশ্রয় নিব। তবে, তার এই বক্তব্যকে ‘ধৃষ্টতা’ বলে অ্যাখ্যায়িত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গুলশানের এই বাড়ি মওদুদের ভাই মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন (নামজারি) করে ডিক্রি জারির রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে গত বছরের ৮ই ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগে ওই রায় বাতিল হয়ে যায়। একই সঙ্গে মওদুদের বিরুদ্ধে সরকারি বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাও বাতিল করে দেয় আপিল বিভাগ। নামজারি বাতিলের বিরুদ্ধে মওদুদের পাশাপাশি তার ভাই মনজুর আহমদ এবং মামলা বাতিলের বিরুদ্ধে দুদক আলাদা দুটি রিভিউ আবেদন করেছিল। দুটি আবেদনই আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যায়।
তারাও এক কাপড়ে উচ্ছেদ হবে : খালেদা জিয়া
যারা এখন বাড়ি দখল ও উচ্ছেদ করছে ভবিষ্যতে তারাও এক কাপড়ে উচ্ছেদ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ ওই বাড়িতে ৩০ বছর ছিলেন। আমিও আমার বাড়িতে ৪০ বছর ছিলাম। আমাকে এক কাপড়ে বের করে দেয়া হয়েছে। জনগণ সব হিসাব রাখছে। এদেরকেও ওই এক কাপড়ে বাড়িঘর থেকে বিদায় করে দেবে। তারা মনে করে, খুব ভালোভাবে থাকবে। জনগণ এটা হতে দেবে না। আল্লাহতায়ালার একটা বিচার আছে। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের ‘পুষ্পগুচ্ছ’ হলে বিএনপি সমর্থিত প্রকৌশলীদের সংগঠন এ্যাব-এর ইফতারের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বাড়ি নিয়ে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের অনেকে বাড়ি জবরদখল করে আছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে বিচার নেই। আজকে আমরা এতো অসহায়। এই যে এতো অত্যাচার-জুলুম হচ্ছে, তার জন্য যে বিচার চাইবো, বিচারের জন্য কোর্টে গেলে বিচার নেই। কারণ সেখানেও আওয়ামী লীগের থাবা, তারা থাবা দিয়ে রেখেছে। নিম্ন আদালত পুরো তাদের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে তারা যাকে বলবে, সে নিরপরাধ হলেও তাকে সাজা দেবে, যে অপরাধী তাকে ছেড়ে দেবে। আপন জুয়েলার্সের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনারা দেখতে পারছেন। যে আপন জুয়েলার্স নিয়ে অনেক ঘটনা আপনারা দেখতে পারছেন। কারণ টাকা-পয়সা লেনদেন হলেই, সোনা-দানা লেনদেন হলেই সবকিছু তদন্ত চেপে যায়। এখন বুঝতে বাকি থাকে না, এই সোনা পাচারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বড় বড় লোকজন জড়িত। যার জন্য এতো সোনা অবাধে দেশে আসতে পেরেছে। লোক দেখানোর জন্য অল্প কিছু ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এটাই হচ্ছে বাস্তব অবস্থা। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশের এই অবস্থার পরিবর্তনে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। মানুষ আর চলমান অরাজক অবস্থা দেখতে চায় না। মানুষ সামনে পরিবর্তন চায়। সেজন্য তারা চায় আগামী দিনে একট সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু আমরা বলেছি, হাসিনার অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচন কমিশন চাইলেও তা সুষ্ঠু হবে না। সেজন্য প্রয়োজন হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময় নির্বাচন কমিশনকে সরকারের প্রভাবমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। ইফতারের মূল মঞ্চে এ্যাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ড্যাবের অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএফইউজে সভাপতি শওকত মাহমুদ, ডিইউজে সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, প্রকৌশলী আনহ আখতার হোসেন, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, এ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হাছিন আহমেদসহ পেশাজীবী নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতা আহমেদ আজম খান, ইসমাইল জবিউল্লাহ, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ড. মামুন আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাহেদ চৌধুরী, প্রকৌশলী মুনসিফ আলী, প্রকৌশলী আশরাফউদ্দিন বকুল, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সেলিম ভুঁইয়া, সাবেক মহিলা এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি ও শাম্মী আখতার ইফতারে অংশ নেন।
মওদুদের বাসার সামনে খালেদা
এদিকে ইফতার অনুষ্ঠানের পর গুলশানে মওদুদ আহমেদের বাসার সামনে যান খালেদা জিয়া। সে সময় ব্যারিস্টার মওদুদ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিভাবে বাসার মালামাল বিনষ্ট করে সরকার সরাচ্ছে, তা মওদুদের কাছ থেকে শুনেন খালেদা জিয়া। বিমর্ষ অবস্থায় মওদুদ আহমদ কিভাবে সরকার কোনো নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে তা বিশদভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বলেন। এ সময়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ ও যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকনসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।