মজুত চাল বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা

54

রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেড়ে যাওয়া চালের দাম সরকারের নানা উদ্যোগের পর কমতে শুরু করে। কেজিপ্রতি সব ধরনের চালের দাম কমেছে গড়ে প্রায় ৬ টাকা। আরো কমার কথা। নানা অজুহাতে নিয়ন্ত্রণহীন খুচরা বাজারে দাম কমার গতি অনেকটাই মন্থর। ব্যবসায়ীরা জানান, যখন থেকে দাম পড়তে শুরু করেছে তখন থেকে বিক্রিও কমে গেছে। কারণ খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে কিছু চাল রয়েছে। তারা সামান্যই দাম কমিয়েছে। কিন্তু এই স্টক শেষ হলে আবার আমাদের কাছে আসতে শুরু করবে তারা। সেটা বড়জোর দুই-চার দিনের ব্যাপার। তারা যখন কম দামে চাল কিনবে, তখন বাধ্য হবে আরো দাম কমাতে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন থেকে বিতরণ সব পর্যায়ে মনিটরিং থাকা দরকার। এখন যে অবস্থা চলছে, তাতে হুট করে মনিটরিং করে তেমন সুফল পাওয়া যাবে না। এ জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে চালের দাম কমেছে পাইকারি বাজারে। দুই-তিন ধাপে মোটা চালের দাম কমেছে ৬ টাকা পর্যন্ত। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে দাম আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ ভোক্তারা জানান, কোনো খুচরা দোকান থেকে বস্তা ভর্তি চাল কেনার ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। এতে চালের দাম কেজিপ্রতি দুই-আড়াই টাকা কম পড়ছে। কিন্তু সাধারণ ক্রেতা যারা ৫ থেকে ১০ কেজি চাল কিনছে তারা এ সুবিধা পাচ্ছেন না। সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম কমার পরও খুচরা ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা লাভের কারণেই এর সুফল পাচ্ছে না তারা। চাল বিক্রেতারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ বস্তা চাল বিক্রি হয়। কিন্তু দাম কমার পর থেকে বিক্রি নেমে এসেছে ২০০-৩০০ বস্তায়। কারণ এখনো খুচরা বিক্রেতাদের কাছে কিছু স্টক রয়েছে। আশা করছি, দুই-তিন দিনের মধ্যেই আবার বিক্রিতে গতি আসবে। তখন দাম কমার বড় প্রভাব পড়বে বাজারে। তিনি বলেন, সাধারণ ক্রেতারাও একটু কম চাল কিনেছে। কারণ যখন দাম বাড়তে শুরু করেছিল, আরো বাড়তে পারে, এই ভয়ে অনেকে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচুর অতিরিক্ত চাল কিনেছে। এটা আমাদের গ্রাহকদের একটা বৈশিষ্ট্য। আবার যখন দাম কমতে শুরু করে তারা অপেক্ষা করতে থাকে আরো কমার আশায়। কাওরান বাজারের সততা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী শাহিন বলেন, মোটা চাল কেজিতে ৬ টাকা পর্যন্ত কমেছে। পাইকারিতে আরো কমবে। আর পাইকারিতে কমলে দেরিতে হলেও তার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়বেই। কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়। কোনো কোনো দোকানিকে এখনো ৫০-৫২ টাকায় এই চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে। হাতিরপুল বাজারে এখনো ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কারওয়ান বাজার, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি বাজারের বেশির ভাগ দোকানেই এই চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা দরে। বিআর আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৬ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগে ৫৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে নাজির ও মিনিকেট চালের দামে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। নতুন ধান ওঠার আগ পর্যন্ত এই দুই রকমের চালের দাম খুব একটা কমবে না বলে জানা গেছে। বাজারে ভালো মানের নাজির ও মিনিকেট চাল এখনো ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬২ টাকায়। খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে, মোটা চালের দাম খুব শিগগির আরো কমে আসবে। কারণ তারা যখন নতুন চাল কম দামে দোকানে তুলবে, তখন বিক্রিও করবে কম দামে। এদিকে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের তফাৎ ৭-৯ টাকা। সরু চালের ক্ষেত্রে ব্যবধান আরো বেশি। পাইকারি বাজারে চালের চাম কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েনি। নানামুখী চাপে কিছু চাল খুচরা বাজারে আগের চেয়ে ২ থেকে ৩ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। এতে খুচরা ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে বলে তাদের দাবি। বাবুবাজারের পাইকারি বাজার থেকেই চালের দাম কমছে। তবে যে হারে বেড়েছে, সে হারে কমছে না। পাইকারি বাজারে চালের সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতা কম। কারণ দাম আরো বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় খুচরা বিক্রেতারা আগেই চাল মজুত করেছেন। বাবুবাজারে পাইকারি বাজারে স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৪৫-৪৬ টাকায়। এ ছাড়া মিনিকেট ৫৬-৫৮, বিআর-আটাশ ৪৯ থেকে ৫২, লতা ৫৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম কমেনি চিনিগুড়াসহ বিভিন্ন সুগন্ধি চালের। পাইকারি বাজারে চিনিগুড়া ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা