মতিন সরকারের আত্মসমর্পণ

43

অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন বগুড়া শহর যুবলীগের বহিস্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিন সরকার। কলেজে ভর্তি করানোর নামে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও মা মেয়ের মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় আলোচনায় আসা এ নেতাকে সমালোচনার মুখে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছিল যুবলীগ। বুধবার বেলা ১২টায় বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদাল-১ এ উপস্থিত হয়ে তিনি জামিনের আবেদন করেন। বিচারক এমদাদুল হক তার আবেদন শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ২০০৯ সালে চকসূত্রাপুরে আবু নাসের ওরফে মুন্সি উজ্জ্বল হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা ছিলো। মামলা নং ৩০২/২০০৯। ধারা ৩০২/৩৪। প্রতাপের সাথে প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়ানো মতিন সরকার পুলিশের চোখে পালাতক ছিলো দীর্ঘ ৯ বছর। তার বিরুদ্ধে ৯টি হত্যা মামলা আছে। এসব মামলার মধ্যে আটটি তিনি জামিনে ছিলেন। ২০০৯ সালে চকসূত্রাপুরে আবু নাসের উজ্জ্বল হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা ছিলো।
গত ১৭ই জুলাই ছোট ভাই শহর শ্রমিকলীগের বহিস্কৃত সভাপতি তুফান সরকার কলেজে ভর্তি করে দেয়ার কথা বলে এক কিশোরীকে বাসায় ডেকে নেয়। এরপর দিনভর তাকে আটকে রেখে কয়েক দফা ধর্ষণ করে। এতে ওই কিশোরী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনাটি ওই কিশোরীর মা জানতে পারেন এবং বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে তুফান সরকারের স্ত্রীকে অবহিত করেন। এরপর তুফান সরকারের স্ত্রী আশা খাতুন তার বড় বোন পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি এবং তার মা রুমী বেগম ওই ধর্ষিতা এবং তার মায়ের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। তাদের দুই জনের মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এই ঘটনা প্রথমে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে জানাজানি হলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা