মন্ত্রীদের সামনে বাহাসে জড়ালেন চাল ব্যবসায়ীরা দাম কমানোর আশ্বাস

50

তিন মন্ত্রীর সামনে বাহাসে জড়িয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা। একে অন্যকে দালাল বলে গালমন্দ করেন তারা। তবে একজন সিনিয়র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বেশিদূর গড়ায়নি। গতকাল সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৈঠকে চালের দাম কমানোর বিষয়ে সরকারি পরামর্শের প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা পাটের বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তার ব্যবহার, বন্দরে চালের ট্রাক প্রবেশে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। মন্ত্রীরা তাদের এ দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুই একদিনের মধ্যেই চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা কমবে।
বৈঠকে অংশ নেয়া বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ব্যবসায়ীদের বলেছেন, যেকোনোভাবে আপনারা চাল আমদানি করুন। সরকারের তরফে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সভা শুরুর দিকে চালের মজুতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেন চাল ব্যবসায়ীরা। এক পর্যায়ে বক্তব্য দিতে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান বাংলাদেশ অটোরাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সরকারসমর্থিত পক্ষের সভাপতি খোরশেদ আলম। এসময় অপর পক্ষের নেতা আব্দুর রশিদ ও লায়েক আলী খোরশেদ আলমকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, আপনি সরকারের দালালি করে সরকারকে বিভ্রান্ত করছেন। এ পর্যন্ত এক ছটাক চালও সংগ্রহ করতে পেরেছেন? তাহলে সরকারকে কিভাবে সাহায্য করছেন আপনি। এ সময় আব্দুর রশিদ ও লায়েক আলীর সমর্থক ব্যবসায়ীরা খোরশেদ আলমের উদ্দেশে বলেন, দালালি ছাড়েন, সরকারের গুদামে চাল দেন। এটিই হবে সরকারের বড় সহযোগিতা। পরে খোরশেদ আলম বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তবে আব্দুর রশিদ ও লায়েক আলী বক্তব্য দেন। বৈঠকে চালের দাম কমানোর আশ্বাস দেন চালকল মালিক, ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। চাল ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি পূরণে বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর চাল ব্যবসায়ীরা দাম কমানোর কথা জানান। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও খাদ্য সচিব মোহাম্মদ কায়কোবাদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ব্যবসায়ীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক পক্ষের সভাপতি আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী, অপর গ্রুপের খোরশেদ আলম খান, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানসহ বিভিন্ন চাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নেতারা। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শুরুতেই চাল ব্যবসায়ীরা চাল আমদানিতে চটের বস্তা ব্যবহারে সরকারি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বলেন, চটের বস্তায় চাল আমদানি করলে প্রতি কেজিতে এক টাকা খরচ বাড়ে। আর প্লাস্টিকের বস্তায় খরচ হয় মাত্র ১৫/১৬ পয়সা। যদি চটের বস্তা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করা হয় তবে আমদানিতে প্রতি কেজি চালের দাম দুই টাকা কমবে। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন। আমাদের খাদ্যের কোনো সংকট নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যেটুকু ঘাটতি হয়েছে তা বিভিন্নভাবে জিটুজি ও সরকারিভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে আনবো। আপনারা (চালকল মালিক ও ব্যবসায়ী) যেসব বাধার কথা বলেছেন সেগুলো দূর করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সভায় ব্যবসায়ীরা চাল সংরক্ষণ ও পরিবহনে পাটের বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহারের অনুমতি চান। প্লাস্টিকের বস্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার দাবি জানান। চাঁপাই নবাবগঞ্জের রহনপুর দিয়ে ট্রেনে চাল পরিবহনের অনুমতি ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করারও দাবি জানান। ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগ শুনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ মুহূর্তে চটের বস্তায় চাল আমদানির সরকারি বাধ্যবাধকতার সিদ্ধান্ত আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলো। এখন যে যেভাবে পারেন চাল আনেন। আমি এনবিআর ও কাস্টমসকে বলে দিচ্ছি। কেউ বাধা দেবে না। এছাড়া, ভারত থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে চাল আমদানি করতে আমি নিজে কথা বলবো। এ সময় ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেন, সংকট কাটাতে চাল আমদানির শুল্ক দেরিতে কমানো হয়েছে। এছাড়া চাল ও ধান সংগ্রহে সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে তা অনেক কম। তখন যদি চালের দাম ৩৪ টাকা নির্ধারণ না করে ৪০ টাকা করা হতো তবে আমরা অনেক চাল দিতে পারতাম। ট্রেনে যাতে চাল আনা যায় সে পদক্ষেপ নেয়া হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশটা আমাদের। আমরা আপনাদের, আপনারা আমাদের। আসুন আমরা হাতে হাত মিলিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা