মন্ত্রীর আশ্বাসে স্বস্তি ফিরেছে মুক্তিযোদ্ধায়

31

আদালতের নিষেধাজ্ঞায় কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি বাতিল হওয়ায় এখন অভিভাবকহীন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। এমন অবস্থায় চাপা আতঙ্কে ফুটবলাররা। সাইনিং মানির পর আর কোনো টাকা পাননি তারা। ক্লাবটির দেনা ছাড়িয়েছে কোটি টাকার উপর। এতো সব সংকটের মধ্যে আশার কথা শোনাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী। তার আশ্বাসেই সাইফ পাওয়ার ব্যাটারি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে আজ প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিকাল পাঁচটার ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। দিনের অপর ম্যাচে ফরাশগঞ্জের মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম আবাহনী।
কমিটি বাতিল হওয়ার পর প্রশাসক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দিলীপ কুমার বনিককে নিয়োগ দেয় মন্ত্রণালয়। দায়িত্ব নিয়ে মন্ত্রীর নির্দেশে প্রশাসক ক্যাম্প চালানোর খরচের ব্যবস্থা করলেও এতে তৃপ্ত নন ফুটবলাররা। তারা নিশ্চয়তা চান তাদের পারিশ্রমিকের। এই সংকট উত্তরণে তারা সহযোগিতা চান মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের। এদিকে মন্ত্রী এ সংকট নিরসনে বেশ উদ্যোগী মনে হয়েছে।
গতকাল একটি বেসরকারি টিভিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী এক হাত নিয়েছেন আগের কমিটি ও বর্তমান প্রশাসককে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের সংকট উত্তরণে প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগের কমিটি যা করেছে তা আসলে ক্ষমার অযোগ্য। আমি শুনেছি তারা ফান্ড থেকে সব টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেছে। এমনকি খেলোয়াড়দের যে চেক দেয়া হয়েছে তাও নাকি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। আমি এটা শুনে হতবাক হয়েছি। দ্রুত এই সংকট সমাধানের জন্য প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছি। আমি ক্যাম্পে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছি। এতেও যদি সমাধান না হয় তবে আমি আইনি দিকে যেতে বাধ্য হবো।
মন্ত্রীর এমন নির্দেশ পেয়ে কিছুটা উজ্জীবিত মুক্তিযোদ্ধার কোচ ও খেলোয়াড়রা। দলটির সহকারী কোচ পনিরুজ্জামান পনির বলেন, মন্ত্রীর আশ্বাসে ক্লাবে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। খেলোয়াড়রাও উজ্জীবিত। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছি আগামীকালের ম্যাচের জন্য।
সংকট নিরসনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ক্যাম্প চালানোর খরচের ব্যবস্থা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত ফুটবলাররাও তাদের বকেয়া পারিশ্রমিক পাবেন। তবে এজন্য ফুটবলারদের একটু ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। ‘ফুটবলারদের চুক্তি হয়েছে আগের কমিটির সঙ্গে। এ কারণে মন্ত্রণালয় ফুটবলারদের চুক্তিটা একটু দেখতে চেয়েছে। এরপরই ফুটবলারদের টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করবে মন্ত্রণালয়’- জানান পণির।
এদিকে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচ মাসুদ কায়সার পারভেজ বলেন, আমরা যে সংকটের মধ্যে ছিলাম তার কিছুটা সমাধান হয়েছে। এখন আমাদের ফোকাস শুধু মাঠে। আমি চেষ্টা করছি খেলোয়াড়দের মনযোগ ফেরাতে।
প্রতিপক্ষ মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে শেখ রাসেলের কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, এদেশের প্রতিটি টিমের শক্তি পার্থক্য উনিশ বিশ। শক্তির পার্থক্য কম হওয়াতে মাঠে যারা শতভাগ দিতে পারবে জয় তারাই পাবে। আর এ ব্যাপারে আশাবাদী শেখ রাসেলের এই কোচ। ‘গতবার দলে শৃঙ্খলা ছিল না বলে দল ভালো থাকার পরও রেজাল্ট আসেনি। তবে এবার আমি এদিকটায় বেশি নজর দিয়েছি। প্রস্তুতিও ভালো হয়েছে। আমার বিশ্বাস জয় দিয়ে এবার লীগ শুরু করবে শেখ রাসেল।