মাশরাফিকে ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন, আজ প্রস্তুতি ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ

23

টেস্টে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা। তাই ১৫ই অক্টোবর প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের আগে সবার চোখের সামনে বিপর্যস্ত এক বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাতে পৌঁছেছেন দেশের সেরা ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার সঙ্গে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম টেস্টে দলের দুই সেরা ক্রিকেটারকেই পাশে পাননি। প্রথম টেস্টে সহ-অধিনায়ক ও দেশ সেরা ওপেনার তামিম দলে থাকালেও দ্বিতীয় টেস্টে ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি। সাকিবতো আগেই টেস্ট থেকে ছুটি নিয়েছিলেন। তবে মাশরাফি সেই হিসেবে ভাগ্যবান। পাচ্ছেন সহ-অধিনায়ক হিসেবে সাকিবকে, মুশফিক আছেন, ইনজুরি সমস্যা না হলে খেলবেন তামিমও। আর সিনিয়রদের মধ্যে দলের আরেক ভরসা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আছেন আরেক অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েসও। জানা যায়, দলের সঙ্গে মাশরাফি যোগ দেয়ার পর থেকেই পাল্টে গেছে পরিবেশ। উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে তরুণদের মাঝেও। দক্ষিণ আফ্রিকার শপিংমলে ঘুরতে গিয়ে দলের তরুণ সদস্য সাব্বির রহমান ফেসবুকে পোস্ট করেছেন, ‘ইনশাআল্লাহ্‌ আমরা ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াবোই।’ আজ প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সেই ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন।
শুধু তরুণরাই নয়, অভিজ্ঞ ইমরুলও বেশ আত্মবিশ্বাসী এখন। ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন ইমরুল। ইনজুরির জন্য ব্লুমফন্টেইনে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি তামিম। অনেকটাই সেরে উঠেছেন বাঁহাতি এ ওপেনার। ইমরুল আশা করেন এবার সুযোগ তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর। তিনি বলেন, ‘মাশরাফি ভাই আর সাকিবের আসা, তামিমও খেলবে এবার। এমন তিনজন খেলোয়াড় না খেললে কতটা ঘাটতি থাকে সেটা তো আমরা এখানে শেষ টেস্টটা খেলে বুঝেছি। ওদের ছাড়া কতটা সংগ্রাম করতে হয়, আমরা বুঝেছি। অবশ্যই ওরা আসাতে দলের ভারসাম্য অনেক ভালো হয়েছে। আশা করি, ওয়ানডে সিরিজে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আমাদের দলেও ভালো ভারসাম্য আছে এখন। ভালো খেলা হবে।’
দলের সঙ্গে যোগ দিয়েই মাঠে নেমে পড়েছেন মাশরাফি। তার সেই টনিক কাজেও এসেছে। মাশরাফিকে নিয়ে ইমরুল বলেন, ‘মাশরাফি ভাই থাকলে আমরা সবাই একসঙ্গে উপভোগ করি। তিনি অনেক মজা করেন। যার জন্য হয়তো বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপটা অনেক সময়ে আমরা বুঝতে পারি না। এটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক জিনিস। উনি এসে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে যে মোটিভেট করেন এটা অবশ্যই অনেক বড় জিনিস।’
ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের জন্য যেমন ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন তেমনি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য প্রতিশোধের। ২০১৫-তে বাংলাদেশ সফরে এসে মাশরাফি বাহিনীর কাছে ২-১ এ সিরিজ হেরেছিল  প্রোটিয়ারা। সেই হারের শোক নিশ্চয়ই তারা এখনো ভুলতে পারেনি। তাই বাংলাদেশকে নিজেদের মাঠে পেয়ে  টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও জবাব দিতে প্রস্তত দক্ষিণ আফ্রিকা দল।