মিয়ানমারকে কূটনৈতিক চাপ দিতে হবে

28

জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা বলতে চাই- আজকে পুরো জাতিকে সঙ্গে নিয়ে যদি প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন, মিয়ানমারকে
গণহত্যার জন্য দায়ী করেন এবং দেশটির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ করার কথা বলেন; তাহলেই কেবলমাত্র মিয়ানমার এই গণহত্যা বন্ধ করতে বাধ্য হবে। নইলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের তারা ফিরিয়ে নিতে রাজি হবে না। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে সন্ধ্যায় সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন(জেটেব) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেটেবের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব। মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা একটা কথা আবারো বলতে চাই। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের জন্য সবার আগে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি প্রয়োজন। এই ঐক্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করার বিকল্প নেই। জাতিসংঘে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মিয়ানমারে গণহত্যা’র নিন্দা না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে (শুক্রবার) ভোরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি কী বলেছেন? একবারও মিয়ানমার যে গণহত্যা চালাচ্ছে সে কথাটা বলেননি এবং মিয়ানমারের নিন্দা করেননি। এটি না করার মানে হচ্ছে আপনি মূল জায়গাটায় যাচ্ছেন না। এখন মূল জায়গাটিতে যাওয়া সবচেয়ে বেশি দরকার। বাংলাদেশ সরকারের ‘রোহিঙ্গাদের জন্য সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখানে বলা হচ্ছে সেফ জোনের কথা। সেফ জোন বলতে কী বুঝাচ্ছেন আমরা এখনও বুঝতে পারিনি। বলা হচ্ছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সেভ জোন। এটা কী আরেকটি প্যালেস্টান রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে চান? মির্জা আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের সম্পূর্ণ নাগরিকের মর্যাদা দিয়ে ফেরত নিতে হবে। তা না হলে তারা সবসময় বিচ্ছিন্নভাবে থেকে যাবে, তাদের ওপর নির্যাতন চলতে থাকবে। আমরা দাবি করছি, রোহিঙ্গাদের সম্পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিয়ে সসম্মানে ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে। তাদের নাগরিকদের যেসব অধিকার থাকে তা বাস্তবায়িত করতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে। এ সময় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মোকাবিলায় বিলম্বে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করায় সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন তিনি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণ বিচ্ছিন্ন হয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে। বাংলাদেশ সরকার, শেখ হাসিনার সরকার জনগণের সমর্থন হারিয়েছে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেজন্য তারা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটা একনায়কতন্ত্রের নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না, যেখানে প্রতিটি মানুষ অশান্তিতে, অস্বস্তিতে রয়েছে, তার জীবনের নিরাপত্তা নেই। সেখানে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সেই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে যখন শান্তির কথা বলেন তখন সেটা আমরা সত্য বলতে পারি না। সেটাকে আমরা মিথ্যা, অপরাধ বলতে চাই। দেশের চলমান সংকট উত্তরণে ফের সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আবারো বলতে চাই- অনেক সময় বয়ে গেছে, অনেক রক্ত ঝরেছে, অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে, অনেক সন্তান তার পিতাকে হারিয়েছে। তাই সংঘাতে না গিয়ে আসুন আলোচনা, সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশে একটি সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। আলোচনার মধ্য দিয়ে পথ তৈরি করে একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। যাতে সমস্ত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে পারে। জনগণ নির্ভয়ে তার ভোট দিতে ও তাদের পছন্দসই সরকার গঠন করতে পারে। এই হচ্ছে আমাদের আহ্বান। সারা দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সরকারি নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দায়েরের কঠোর সমালোচনা করে তিনি দলের নেতাকর্মীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সংগঠনের সভাপতি ফখরুলের সভাপতিত্বে ও এবিএম রুহুল আমীন আখন্দের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল খান, কাদের গনি চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মেজবাহ ও জেটেব-এর সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেন।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা