মিয়ানমারে শতাধিক আরোহী নিয়ে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত

31

মিয়ানমারের শতাধিক আরোহীবাহী একটি সামরিক বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে আন্দামান সাগরে। বুধবার বিকালে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে অনুসন্ধান শুরু করে নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিমান। পরে রাতের দিকে সন্ধান মিলে নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ। এই বিমানের যাত্রীরা ছিলেন মূলত সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা। খবরে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিয়িক থেকে ইয়াঙ্গুনগামী বিমানটির যাত্রীদের মধ্যে এক ডজনেরও বেশি শিশু রয়েছে। স্থানীয় পর্যটন কর্মকর্তা নাইং লিন জ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের বিভিন্ন অংশ দাওয়েই শহর থেকে ১৩৬ মাইল দূরে পাওয়া গেছে।’ বিমানবাহিনীর একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নৌবাহিনীর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী জাহাজ এই ধ্বংসাবশেষ পায়। এদিকে সামরিক বাহিনী প্রধানের কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় ১টা ৩৫ মিনিটে মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে থাকা অবস্থায় বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে বিমানের আরোহীর সংখ্যা নিয়ে একাধিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ম্যাত মিন উ বলেছিলেন, চীনের নির্মিত ওয়াই-৮ মডেলের বিমানটিতে যাত্রী ছিলেন ৯০ জন। এ ছাড়া ছিলেন ১৪ জন ক্রু। তবে সামরিক বাহিনী প্রধানের কার্যালয় বলেছে, যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১০৬ জন। চারটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও দুইটি বিমান উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। মিয়ানমারে এখন বর্ষা মৌসুম হলেও, বিমান নিখোঁজের সময় খারাপ আবহাওয়া থাকার কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। একটি সূত্র বলে, ‘আমাদের মনে হয় এটা প্রযুক্তিগত ত্রুটি। সেখানে আবহাওয়া ভালোই ছিল।’ এএফপির খবরে বলা হয়, চীনের নির্মিত ওয়াই-৮ মডেলের বিমান মিয়ানমার সামরিক বাহিনী পরিবহন  কার্গো বিমান হিসেবে ব্যবহার করে। সেনাবাহিনী বলেছে, গত বছরের মার্চে এই বিমান দেশে এসেছে। মাত্র ৮০৯ ঘণ্টা উড়েছে বিমানটি। ৫০ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা মিয়ানমারের তৎকালীন সামরিক জান্তা চীন থেকে অনেক বিমান কিনেছিল। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমারের বিমান বহরে অনেক বিমানই পুরাতন ও অচল। তিনি বলেন, মিয়ানমার বিমানবাহিনীর সেফটি পারফরম্যান্স খুবই খারাপ। বিমান দুর্ঘটনার রেকর্ড মিয়ানমারে অনেক বেশি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানী নপিদং থেকে রওনা দেয়ার পরই বিমান বাহিনীর এক বিমান বিস্ফোরিত হয়। এই জুনে একটি এমআই-২ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সেনা কর্মকর্তারা মারা যান। বাণিজ্যিক বিমানগুলোর পরিস্থিতিও খারাপ। ২০১২ সালে ঘন কুয়াশায় একটি বাণিজ্যিক বিমান উড়ার কিছুক্ষণ পরই বিধ্বস্ত হয়।