মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন আর নেই

27

মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার, একাত্তরে সুন্দরবন অঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্ব দেয়া মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি…. রাজিউন)। জিয়াউদ্দিনের ভাগ্নে শাহানুর রহমান শামীম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গতকাল ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। আজ শনিবার তার মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হবে বলে জানান জিয়াউদ্দিনের স্বজনরা।
জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রায় দুই বছর ধরে জটিল লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর সর্বশেষ গত ১লা জুলাই তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জিয়াউদ্দিন আহমেদকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হয়। গতকাল সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জিয়াউদ্দিন আহমেদ ১৯৫০ সালের ডিসেম্বরে পিরোজপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পিরোজপুর সরকারি সোহ্‌রাওয়ার্দী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৭০ সালের শেষ দিকে তিনি কমিশন লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ২০শে মার্চ তিনি লাহোর থেকে দেশে চলে আসেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি নবম সেক্টরের সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সুন্দরবন অঞ্চলকে শত্রুমুক্ত রাখতে নেতৃত্ব দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধকালীন সুন্দরবনের বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ করে ?‘মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরবন’- নামে একটি বইও লিখেছেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ। ‘সুন্দরবন বাঁচাও’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনও গড়ে তোলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন আহমেদ। সুন্দরবনের ‘মুকুটহীন সম্রাট’ খ্যাত জিয়াউদ্দিন আহমেদ সুন্দরবন এলাকায় ডাকাত নির্মূল অভিযানেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০১৩ সালে বনদস্যুদের গুলিতে আহত হন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৯-৯১ সালে তিনি পিরোজপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।