মুশফিকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেই খালাস বুলু!

38

একটু দেরিতে হলেও ভুল বুঝতে পেরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও মহিলা বিভাগের চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল বুলু। নিজের করা বেফাঁস মন্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের কাছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের (বিপিএল) দল বরিশাল বুলসের মালিকদের অন্যতম একজন বুলু। বিপিএলে তার দলেই আইকন ক্রিকেটার ও অধিনায়ক হিসেবে খেলেছেন মুশফিক। চতুর্থ আসরে দেশের সেরা উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের নেতৃত্বে তার দল ভালো করতে পারেনি। যে কারণে বিপিএলের পঞ্চম আসর শুরুর আগে একটি টিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি মুশফিককে বাজে অধিনায়ক উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন দায়িত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ নিয়েও। বিষয়টি জানার পর মুশফিক বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকের ও বিসিবির সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজনের কাছে অভিযোগ করেন। সেই সময় মল্লিক বলেছিলেন তাকে শোকজ করা ছাড়াও শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেবেন। কিন্তু গতকাল দেখা গেল উল্টো চিত্র। দুঃখ প্রকাশ করেই খালাস পেলেন বিসিবির প্রভাবশালী পরিচালক এমএ আউয়াল বুলু। এই বিষয়ে মল্লিক বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই ভুল বোঝাবুঝি। উনি আসলে কিছু না বুঝেই বলেছেন। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটে গেছে। মুশফিকও স্পোর্টিংলি নিয়েছে। তাই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।’
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে এমএ আউয়াল বুলু প্রায় দুই সপ্তাহ মুখ খোলেননি এই ইস্যুতে। মুশফিককে কষ্ট দেওয়ার কোনো লক্ষ্য ছিল না বলে গতকাল জানান তিনি। বরিশাল ছেড়ে মুশফিক যোগ দিয়েছেন রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক হুট করে অন্য দলে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় রাগে এমন মন্তব্য করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এমএ আউয়াল। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও একজন খেলোয়াড় ছিলাম, তাই খেলেয়োড়দের আমিও ভালবাসি। যেহেতু হঠাৎ করে শুনলাম মুশফিক চলে যাবে, তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে আমার নিজের কাছে খারাপ লাগলো। আমাকে না বলে চলে যাবে? তখন আমি ওই কথা বলেছিলাম।’ বর্তমানে তিনি বুঝতে পারছেন এ ধরনের মন্তব্য করা তার ঠিক হয়নি। তাই দুঃখ প্রকাশ করলেন তিনি। এম আউয়াল বলেন, ‘ওকে কষ্ট দেয়ার কোনও লক্ষ্য ছিল না আমার। বিষয়টি আমার কাছেও খারাপ লেগেছে, আমি দুঃখিত।’
এমএ আউয়াল শুধু বিসিবির পরিচালকই নয় তিনি আবাহনী ক্লাবের একজন সংগঠনকও। যে কারণে আগেই ধারণাা করা হচ্ছিল হয়তো তার শাস্তি হবে না। যদিও বিপিএল গভনিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেছিলেন, ‘কোন ফ্র্যাঞ্চাইজিরই অধিকার নেই জাতীয় দলের অধিনায়ক থেকে শুরু করে কোন সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরণের মন্তব্য করার। আমরা তাকে সোকজ করবো। আমাদের কাছে তার উত্তর সঠিক মনে না হলে আমরা তাকে আর্থিক জরিমানা থেকে যে কোন ধরণের শাস্তির সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’ গতকাল অবশ্য নিজের বক্তব্য থেকে একেবারেই সরে আসেন মল্লিক। তিনি বলেন, ‘একটা মন্তব্য নিয়ে বুলু ভাইয়ের সঙ্গে মুশফিকের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। মুশফিকও কষ্ট পেয়েছিল। এ ব্যাপারে আমরা গভর্নিং কাউন্সিল থেকে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। আমাদের চিঠির মাধ্যমে উত্তরও তিনি দিয়েছেন। ইস্যুটা নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি এবং মুশফিকের সঙ্গেও বসেছি। এ ব্যাপারে উনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
বিপিএলে ক্রিকেটার ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের মনমালিন্য ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটানা এর আগেও ঘটেছে। অবশ্য শাস্তিও পেয়েছেন অনেকেই। যে কারণে এমন ঘটানা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে তা নিয়েও পরামর্শ দিয়েছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিরা যদি নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলে তাহলে আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।’