যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অগ্রাহ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

24

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করে মধ্যম পাল্লার নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে ইরান। ‘খোরামশাহর’ নামক এ ক্ষেপণাস্ত্রটি ২ হাজার কিলোমিটার দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তি ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিরও সমালোচনা করেন। শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রতিবন্ধক হিসেবে ইরান সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। দেশটির রাষ্ট্র পরিচালিত টিভি চ্যানেল প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার তেহরানে অনুষ্ঠিত একটি সামরিক কুচকাওয়াজে প্রথম বারের মতো ‘খোরামশাহর’ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রদর্শিত হয়। এ ক্ষেপণাস্ত্রটি কয়েকটি ‘ওয়ারহেড’ বহন করতে সক্ষম। জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে ইরান সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সহায়তা করায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন একটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল ইরান। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এ রকম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ২০১৫ সালে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে লঙ্ঘন করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার শর্তে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা হয়েছিল। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে দুর্বৃত্তদের শাসনাধীন একটি ছোট দলের অন্তর্ভুক্ত করে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশটির সরকার ‘মৃত্যু ও ধ্বংসের’ মধ্যে নিমজ্জিত। এ সময় তিনি ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিব্রতকর বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের এসব কথার পাল্টা জবাবে হাসান রুহানি ডনাল্ড ট্রাম্পকে ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আগমন করা দুর্বৃত্ত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি ট্রাম্পের অজ্ঞতাপ্রসূত, অযৌক্তিক ও বিদ্বেষপূর্ণ কথাবার্তার নিন্দা জানান। বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ব্যাপারে রুহানি বলেন, চুক্তি লঙ্ঘন করতে তার দেশ প্রথম হবে না। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো ও পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চলা সত্ত্বেও ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে সরে যাবার হুমক্তি দিচ্ছেন। বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই মনো স্থির করেছেন, কিন্তু এখনই তার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবেন না।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা