যেকোনো মুহূর্তে স্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে রোহিঙ্গা শিবিরে: এমএসএফ

29

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বেসরকারি মানবিক সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) সতর্ক করে বলেছে, শিবিরগুলোতে কলুষিত, মল-মিশ্রিত পানি বয়ে চলেছে। যথেষ্ট পরিমাণে শৌচাগার নেই। বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে কক্সবাজারে এক মাসেরও কম সময়ে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা এসে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে আখ্যায়িত করেছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানাচ্ছেন সেখানকার বীভৎসতার গল্প। তাদের ভাষ্যমতে, মিয়ানমারের সেনা ও কট্টরপন্থি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তাদেরকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করার অভিযানে নেমেছে। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনে হত্যা করা হচ্ছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বহু গ্রাম। এই নৃশংসতা থেকে বাঁচতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে। কিন্তু এই বিশাল সংখ্যার রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় বাংলাদেশ ও ত্রাণকর্মীরা। অনেকে রাত কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে। প্রায় কোনো প্রকার ত্রাণই যথেষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কক্সবাজার পরিণত হয়েছে বিশ্বের বৃহৎ শরণার্থী শিবিরে। এদিকে বৃহসপতিবার এমএসএফ বলেছে, ‘জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় ঠেকাতে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ব্যাপক পরিমাণে মানবিক সহায়তা দরকার। সংস্থাটির জরুরি মেডিকেল সমন্বয়ক কেট হুয়াইট বলেন, আমরা প্রতিদিন ডিহাইড্রেশনে মৃতপ্রায় পূর্ণবয়স্ক মানুষ পাচ্ছি। এটা পূর্ণবয়স্কদের জন্য খুবই বিরল ঘটনা। এ থেকে বোঝা যায়, যেকোনো মুহূর্তে একটি জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে।’ মূল শিবিরগুলোর পাশে অবস্থিত বস্তির মতো কুটিরগুলোতে যাতায়াত করার জন্য নির্মিত কোনো রাস্তা নেই। এতে করে সেখানে সাহায্য পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। হুয়াইট বলেন, সেখানে শৌচাগার প্রায় নেই। আপনি যখন ওই কুটিরগুলোর মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করবেন, তখন আপনাকে নোংরা পানি ও মানুষের মল পেরিয়ে যেতে হবে।’ হোয়াইট যোগ করেন, ‘বিশৃঙ্খল ও সামঞ্জস্যহীন খাদ্য বিতরণ প্রক্রিয়ার কারণে অনেক রোহিঙ্গা দিনে মাত্র একবেলা শুধু ভাত খেয়ে দিনযাপন করছে।’ বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। শরণার্থীদের জন্য তারা শৌচাগার ও আরো আশ্রয়ণ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, অনেক শরণার্থী ভারি বর্ষণের মধ্যেও খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। এছাড়া বাংলাদেশ সরকার শরণার্থীদের জন্য নতুন করে ২ হাজার একর জমি জুড়ে নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শুক্রবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলেছে, সংস্থাটি দ্রুতগতিতে প্লাস্টিকের মাদুর বিতরণ করে চলেছে। যাতে করে সাময়িকভাবে কিছুটা সুরক্ষা পায় শরণার্থীরা। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহেসিক বলেন, ‘শিবিরগুলোতে রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। জায়গায় কুলাচ্ছে না। শিবির বিস্তৃত করা অতি প্রয়োজনীয়।’ এমএসএফের মতে, শিবিরগুলোতে রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ পর্যায়ের ঝুঁকি রয়েছে। সংস্থাটির জরুরি অবস্থার সমন্বয়ক রবার্ট অনুস বলেন, “যেকোনো একটি ছোট ঘটনা বড় ধরনের মহামারী সৃষ্টি করতে পারে। এটা হয়তো সংকট ও বিপর্যয়ের মধ্যকার ‘টিপিং পয়েন্ট’’।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা