যৌন হয়রানির অভিযোগে ৮১ বছর বয়সী ইমামের ১৩ বছরের জেল

98

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে কার্ডিফে ৮১ বছর বয়সী একজন ইমামকে ১৩ বছরের জেল দিয়েছে আদালত। সাজাপ্রাপ্ত ইমামের নাম মোহাম্মদ হাজী সিদ্দিকী। আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। বলেছেন, তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ বানোয়াট। তার দাবি এটা ষড়যন্ত্র। মসজিদের কিছু সদস্য এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে মোহাম্মদ হাজী সিদ্দিকী কার্ডিফে মদিনা মসজিদে শিক্ষকতা করেন ৩০ বছরেরও বেশি সময়। তার জন্ম হংকংয়ে। সেখান থেকে তিনি পাকিস্তান চলে যান। তারপর ১৯৬৭ সালে যান বৃটেনে। সেখানেই কার্ডিফে তিনি বসতি গড়েন। তিনি মদিনা মসজিদের একজন সদস্য। এ মসজিদটি পরিচালনার সঙ্গেও জড়িত তিনি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ করা হয়েছে, মসজিদে আরবি শিক্ষা দেয়ার সময় তিনি চার তরুণীকে যৌন হয়রানি করেছেন। তাদের শরীর স্পর্শ করেছেন। ওই ছাত্রীদেরকে তিনি নিজের কাছে বসাতেন পড়ানোর জন্য। এ সময় তারা পড়ার ভিতর কোনো ভুল করলেই তিনি তাদেরকে স্পর্শ করতেন, থাপড় দিতেন। এ অভিযোগ কার্ডিফের ক্রাউন কোর্টে ওঠে। তাতে শুনানি হয়। বলা হয়, ছাত্রীদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য ধাতব অথবা কাঠের লাঠি আসে। পড়ানোর সময় তিনি এগুলো ব্যবহার করতেন। তা সত্ত্বেও তিনি ওই চার তরুণীকে স্পর্শ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ১৪টি অপরাধ খুঁজে পায় জুরিরা।অ তার মধ্যে ৬টি অপরাধ হলো হয়রানির। ৮টি অভিযোগ যৌন হয়রানির। এসব ঘটনা ঘটে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে। অভিযুক্ত সাব্যাস্ত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ১৩ বছরের জেল দেন বিচারক স্টিফেন হপকিনস কিউসি। একই সঙ্গে তাকে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত যৌন নিপীড়ক হিসেবে রেজিস্টারে নাম তোলার নির্দেশ দেন। বিচারক বলেছেন, যে চারজন অভিযোগ করেছেন তারা খুব সাহসী। এর মাধ্যমে আস্থার ভয়াবহ এক লঙ্ঘন ঘটিয়েছেন আপনি। অভিভাবকরা তাদের তরুণ, তরুণীদের আপনার কাছে পাঠান আরবি শিক্ষা নেয়ার জন্য। উল্লেখ্য, ওই মসজিদে প্রতি সপ্তাহে চারবার ক্লাস হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাকে ‘আংকেল সিদ্দিক’ নামে ডাকে। মোহাম্মদ হাজী সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এসব যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত শুরু করে পুলিশ ২০০৬ সালে। প্রথমে দু’জন তরুণী এ অভিযোগ করেন। তাদের বয়স এখন ২০ বছর উত্তীর্ণ।