রাখাইনের পুড়ে যাওয়া গ্রামগুলো দখলে নেবে মিয়ানমার সরকার

28

সামপ্রতিক সহিংসতায় রাখাইনে যে গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সেগুলো পুনঃনির্মাণের দায়িত্ব নেবে মিয়ানমার সরকার। দেশটির সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক মন্ত্রী উইন মেয়াত আয়ি এমন মন্তব্য করেছেন। বুধবার স্থানীয় পত্রিকার বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
খবরে বলা হয়, রাখাইন সামপ্রতিক সহিংসতার তোপ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। রাখাইনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বহু গ্রাম। মিয়ানমার সরকারের দাবি, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই এসব গ্রাম পুড়িয়েছে। তবে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ভাষ্যমতে, এসব দেশটির সামরিক বাহিনীর নৃশংস, নির্মম অভিযানের অংশ। বুধবার স্থানীয় পত্রিকা গ্লোবাল নিউ লাইট অফ মিয়ানমারে প্রকাশিত খবর অনুসারে, রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তুয়িতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে উইন মেয়াত বলেন, ‘আইন অনুসারে, আগুনে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এলাকাগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনার আওতায় পড়ে।’ এমন পরিস্থিতিতে পুড়ে যাওয়া গ্রামগুলোর পুনঃনির্মাণের দায়িত্ব সরকারের হাতে যাওয়া নিয়ে নানা উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। যেমন, রোহিঙ্গারা কি আসলেই সেখানে ফিরে যেতে পারবে! উইন মেয়াত রাখাইনে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ উত্তেজনার সমাধান করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করার একটি কমিটির প্রধানও। মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমপর্কিত একটি আইন উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া অঞ্চলগুলোর পুনঃনির্মাণের কাজ হবে খুবই কার্যকর। আইন অনুসারে, দুর্যোগে বা সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনঃনির্মাণের দায়িত্ব সরকারের আওতায় পড়ে।’ এদিকে, পুড়ে যাওয়া গ্রাম পুনঃনির্মাণ নিয়ে আলোচনা হলেও, রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরে যেতে পারবে কিনা সে বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য মন্ত্রীকে পাওয়া যায় নি। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, ‘স্যাটেলাইটে ধারণকৃত ছবিতে দেখা গেছে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৪০০ গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ দুর্বৃত্তরা রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমার থেকে বের করে দেয়ার উদ্দেশ্যে, তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ সহ নির্যাতনের অভিযান চালাচ্ছে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাখাইনে মুসলিমদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ এনেছে। তবে মিয়ানমার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উল্লেখ্য, ২৫শে আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা রাখাইনের সেনাবাহিনী ক্যাম্পে হামলা চালায়। ওই হামলার জবাবে রাখাইনে সামরিক অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। সেখান থেকেই শুরু সামপ্রতিক সহিংসতার। মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, রাখাইনে প্রায় অর্ধেক রোহিঙ্গা সেখান থেকে পালিয়ে এসেছে। তবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালানো, সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের জন্য তারা রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে। সরকার বলেছে, এখন পর্যন্ত সাম্প্রতিক সহিংসতায় প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৪০০’ই বিদ্রোহী। এই সপ্তাহে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করার অভিযোগ এনেছে। দেশটি এই অভিযোগও অস্বীকার করেছে। মঙ্গলবার এক ত্রাণ সংস্থা বলেছে, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অল্প করে হলেও রোহিঙ্গাদের আগমন অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা