রায়ে আমাদের উৎফুল্ল হওয়া বা না হওয়ার কারণ নেই

22

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর পর আওয়ামী লীগ বেহাল হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যিনি পথেরও মন্ত্রী, সেতুরও মন্ত্রী। তিনি নিজে যে বেহাল অবস্থা করে রেখেছেন সড়কের ও জনপথের- তাতে
করে রাজনীতির অবস্থা আরো বেহাল হয়ে পড়েছে। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, ষোড়শ সংশোধনী রায়ে আমাদের বিশেষভাবে উৎফুল্ল হওয়া বা না হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা এজন্য উৎফুল্ল হয়েছি যে, বর্তমান সরকার, আওয়ামী লীগ ও দেশের রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য এবং জনগণের মতামতের প্রতিফলন হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছি। আমরা মনে করি, এই রায়ের ভিত্তিতে সরকারের যদি ন্যূনতম মূল্যবোধ থাকে এবং নৈতিকতার লেশমাত্র অবশিষ্ট থাকে, তাহলে অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি সহায়ক সরকারের অধীনে অবশ্যই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। যেখানে দেশের জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটে। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অলরেডি নাকচ হয়ে গেছে। আপনারা দেখেছেন তাদের দলের লোকেরাই বলেছেন, এটা তিনি ঠিক করেননি। আর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা খুব বেশি গুরুত্ব দেই না। নতুন জোট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন আমাদের জোটের সঙ্গে আসতে পারে। অন্যদিকে গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য, সরকারের দমন নীতির বিরুদ্ধে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো জোট গঠন করে রাজনীতি, সংগ্রাম করতে চায়, সেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে সম্মতি ও সমর্থন থাকবে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে মির্জা আলমগীর বলেন, অতীতে বিএনপি কী আন্দোলন করেছে, কী আন্দোলন হয়েছে তা দেশের মানুষ জানে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির আগে কী আন্দোলন হয়েছে, ২০১৫ সালে কী আন্দোলন হয়েছে, সবাই সেটা জানে। আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না- নব্বইয়ে গণআন্দোলন ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ওয়ান ইলেভেনের অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন ছিল সব সময় বিএনপি তাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আমরা গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে আপসহীন। আমাদের আন্দোলন চলমান আছে এবং থাকবে। আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের রায়ের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে। তারা বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে সকলের সামনে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তারা তখনই হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। বিশ্বজিৎ তারই একটা অংশ। দুর্ভাগ্যজনক হলো এখনও অনেক হত্যাকারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাদের আদালতে হাজির করতে সরকার সমর্থ হয়নি। এর আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ড্যাবের মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, ড্যাব নেতা প্রফেসর ডা. আবদুল মান্নান মিয়া, প্রফেসর ডা. মোস্তাক রহিম স্বপনসহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।