রেইনট্রি ধর্ষণকাণ্ডে সাফাতদের বিচার শুরু

31

রাজধানীর বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাইম আশরাফসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক শফিউল আজম এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আগামী ২৪শে জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য্যের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই ধর্ষণ মামলার বিচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। এর আগে গত ৮ই জুন সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ই-মেকার্স’-এর কর্মকর্তা নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিম, রেগনাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও তার দেহরক্ষী রহমত আলীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পরিদর্শক ইসমত আরা এমি। অভিযোগপত্রে বাদীপক্ষে ৪৭ জনকে সাক্ষী করা হয়। গতকাল অভিযোগ গঠনের শুনানির ধার্য্য দিনে বেলা পৌনে ১১টার দিকে আসামিদের আদালতের এজলাসে আনা হয়। আদালতের বিচারকের জবাবে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এর আগে আসামিদের আইনজীবীরা মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে শুনানি শেষে তা খারিজ করে দেন আদালতের বিচারক। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুর রহমান হাওলাদার, কাজী মোহাম্মদ নজিবুল্লাহ হিরু, মাহবুব আহমেদ ও খায়রুল ইসলাম লিটন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন এ আদালতের বিশেষ কৌঁসুলি আলী আকবর। জন্মদিনের পার্টির কথা বলে গত ২৮শে মার্চ রাতে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণীকে ধর্ষণ করেন সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ। অন্যরা ধর্ষণে সহযোগিতা করেন। এ ঘটনায় গত ৬ই মে বনানী থানায় ধর্ষণের মামলা দায়েরের পর গত ১১ই মে সিলেট থেকে সাফাত ও সাদমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১৫ই মে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমতকে ঢাকা থেকে এবং ১৭ই মে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নাঈম আশরাফকে। গ্রেপ্তারের পর সাফাত আহমেদ ও নাইম আশরাফ ধর্ষণের ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।