রেইনট্রি ধর্ষণ মামলার চার্জশিট ধর্ষণ করে সাফাত-নাঈম বাকিরা সহযোগিতায়

32

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণ মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। গতকাল বিষয়টি জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পরিদর্শক ইসমত আরা এমি। বুধবার বিকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেলওয়ার হোসেনের আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৯-ক/৩০ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটে জোরপূর্বক ধর্ষণের সত্যতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ই-মেকার্স’র কর্মকর্তা নাঈম আশরাফের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলার অন্য তিন আসামিকে ধর্ষণের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চার্জশিটে ৪৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। সাক্ষীরা হলেন- রেইনট্রি হোটেলের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ঘটনার দিন জন্মদিনের পার্টিতে অংশ নেয়া নির্যাতিতা দুই তরুণীর বন্ধু ও বন্ধুর বান্ধবী, সাফাত আহমেদের সাবেক স্ত্রী ও চিকিৎসকসহ পারিপার্শ্বিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা।
এ বিষয়ে ফরিদা ইয়াসমিন মানবজমিনকে বলেন, অন্তত ১০-১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ৪৭ জনকে। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে সাফাত ও নাঈম আশরাফ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করেছে। অন্যদের ধর্ষণের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তাদের শাস্তির আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চার্জশিটে ধর্ষণের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই তরুণীর বন্ধু রেগমান গ্রুপের মালিকের ছেলে সাদমান সাকিফ, সাফাত আহমেদের গাড়ি চালক বিল্লাল হোসেন ও গানম্যান রহমত আলীকে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার আনিসুর রহমান জানান, মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন চার্জশিটে ‘দেখিলাম’ বলে স্বাক্ষর করেছেন। আগামী ১৯শে জুন মামলাটির তারিখ ধার্য করা হয়েছে। সূত্রমতে, ওইদিন আদালত মামলার বিচারের জন্য নারী ও শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে।
গত ২৮শে মার্চ রাতে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে সাফাত আহমেদের জন্মদিনের পার্টিতে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে। একপর্যায়ে জোর করে আটকে রেখে তাদের ধর্ষণ করে আপন জুয়েলার্সের মালিক সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ। অভিযোগ রয়েছে এ সময় সাফাতের নির্দেশে ভিডিও ধারণ করে গাড়িচালক বিল্লাল। ঘটনার শুরু থেকে উপস্থিত সাদমান সাকিফ ও গানম্যান রহমত। এর প্রায় ৪০ দিন পর গত ৬ই মে বনানী থানায় মামলা করেন নির্যাতিত এক তরুণী। মামলা করার পর পৃথক অভিযানে বিভিন্নস্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আসামিদের। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত স্বীকার করেছে আসামিরা। এমনকি অপরাধ দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ ও বিল্লাল।