রেকর্ডগড়া জয় দক্ষিণ আফ্রিকার এক রাবাদাতেই খতম

22

এবারের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ছিলেন না শীর্ষ পেসার ডেইল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডার, ক্রিস মরিসরা। আর সিরিজের প্রথম টেস্টের মাঝপথে  ইনজুরি নিয়ে ছিটকে পড়েন অপর পেসার মরনে মরকেলও। কিন্তু এতে খুব বেশি এলো-গেল না প্রোটিয়াদের। দ্বিতীয় টেস্টে বরং আরো দাপুটে জয় পেলো দক্ষিণ আফ্রিকা। আর এবারও টাইগারদের যম হয়ে উঠলেন ওই কাগিসো রাবাদা। বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্লুমফন্টেইন টেস্টে ইনিংস ও ২৫৪ রানে জয় কুড়ালো দক্ষিণ আফ্রিকা। টেস্টে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। আগের রেকর্ডে ২০০১-এ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রোটিয়ারা জয় দেখেছিল ইনিংস ও ২২৯ রানে। ম্যাচের উভয় ইনিংসে পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব দেখালেন প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদা। এতে তিনি স্পর্শ করলেন গর্বের ল্যান্ডমার্কও। টেস্টে ১০০ উইকেট পূর্ণ হলো তার। টাইগার ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহকে সাজঘরে ফিরিয়ে এ ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করেন ২২ বছর বয়সী রাবাদা।
গতকাল ব্লুমফন্টেইনের ম্যাঙ্গায়ুং ওভাল মাঠে ১৭২ রানে গুঁড়িয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৪৭ রান। পচেফস্ট্রমে অনন্ত দুইবার ব্যাট করানো গিয়েছিল প্রোটিয়াদের। এতে সিরিজের প্রথম টেস্ট গড়িয়েছিল পঞ্চম দিনে। কিন্তু ব্লুমফন্টেইনে মাত্র আড়াই দিনেই আত্মসমপর্ণ করলো টাইগারবাহিনী। এতে টাইগাররা পেল ফলো-অনের লজ্জাও। ব্লুমফন্টেইনে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা ব্যাট হাতে ক্রিজে কাটায় মাত্র ৪২.৫ ওভার। আর দ্বিতীয় ইনিংসে  টাইগাররা গুটিয়ে যায় ৪২.৪তম ওভারে। দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। ম্যাঙ্গায়ুং ওভাল মাঠের পেস সহায়ক পিচে যথার্থই মনে হচ্ছিল মুশফিকের সিদ্ধান্ত। তবে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের দারুণ নৈপুণ্যে ক্রমেই হতাশা বাড়ে টাইগরারদের। ৪২৮/৩ সংগ্রহ নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।  বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হয় দেড় ঘণ্টা দেরিতে। আর ৫৭৩/৪ সংগ্রহ নিয়ে লাঞ্চের পরপরই ইনিংস ঘোষণা করেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। আর ব্যাট হাতে ভোগান্তি জারি থাকে টাইগারদের। মাত্র ১৪৭ রানে গুঁড়িয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ১৩.৫ ওভারের স্পেলে ৩৩ রানে পাঁচ উইকেট নেন কাগিসো রাবাদা। আর দ্বিতীয় ইনিংসে রাবাদা ১১ ওভারের স্পেলে ৩০ রানে নেন পাঁচ উইকেট। পচেফস্ট্রমে টেস্টে অভিষেক হয় প্রোটিয়া অলরাউন্ডার আনদিলে ফেলুকায়োর। গতকাল বাংলাদেশ ইনিংসের শেষটায় টাইগারদের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন ২১ বছর বয়সী এ পেসারও। বল হাতে ৯.৪ ওভারের স্পেলে ৩৬ রানে তিন উইকেট নেন ফেলুকায়ো। আর ইনিংসে শেষদিকে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান তাইজুল ইসলাম ও রুবেল হোসেনকে সরাসরি বোল্ড করেন রাবাদা। বংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৩ রান আসে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে। আর ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটিতে মাহমুদুল্লাহ ও লিটন কুমার দাস বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে জমা করেন ৪৩ রান। ৫৯ বলের ইনিংসে মাহমুদুল্লাহ হাঁকান ৭টি চার ও একটি ছক্কা। আগের দিনের ৭/০ সংগ্রহ নিয়ে গতকাল শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওপেনার সৌম্য সরকার ও ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান মুমিনুল হককে সাজঘরে ফেরান কাগিসো রাবাদা। পরে ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখাতে ব্যর্থ হন দলের বাকিরাও।
২০১৫’র নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে মোহালিতে টেস্ট অভিষেক কাগিসো রাবাদার। ২২ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ইনিংসে পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব দেখালেন তিনি ৭ বার। আর তৃতীয়বার পেলেন ম্যাচে ১০ উইকেট। ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিনি ম্যাচে ১০ উইকেটের (৭+৬) কৃতিত্ব দেখান গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে। চলতি বছর জানুয়ারিতে কেপটাউনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের দু্‌ই ইনিংসে রাবাদা নেন  ৬ ও ৪ উইকেট।