রোনালদোকেই পছন্দ বোল্টের

37

পৃথিবীর সর্বকালের দ্রুততম মানব জ্যামাইকার স্বর্ণ সন্তান উসাইন বোল্ট। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণপদক লাভ করেন তিনি। ২০১২’র লন্ডন ও ২০১৬’র রিও অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। অলিম্পিকে আটটি এবং বিদায়ী আসরের আগে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছেন ১১টি স্বর্ণপদক। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক থেকে শুরু করে ২০১৬ রিও অলিম্পিক পর্যন্ত গোটা বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন সর্বকালের সেরা এ স্প্রিন্টার। লন্ডনে এবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানেন বোল্ট।

স্প্রিন্টার হলেও ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি আলাদা অনুরাগ তার। মাঝে-মধ্যে ফুটবল খেলার কথাও বলে থাকেন। এ বছর বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ড লাভ, সামনের দিনগুলোতে খেলা নিয়ে তার ভাবনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সম্প্রতি ফিফা ডটকমের মুখোমুখি হন উসাইন বোল্ট। এখানে সেই সাক্ষাৎকারের চৌম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।
ফিফা ডটকম: ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলে জ্যামাইকা প্রথম অংশগ্রহণ করে। তখন আপনার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। সেই দিনগুলো আপনি কতটা স্মরণ করতে পারেন। উল্লেখযোগ্য কিছু মনে পড়ে কি?
উসাইন বোল্ট: আমি ভুলে যাইনি সেই দিনটিকে যেদিন আমরা প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ওইদিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। আমার মনে আছে ওই বিশ্বকাপে রবি আরলি মাথা দিয়ে বল মেরে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম গোল দিয়েছিলেন। পরে আসরে নিজেদের শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পায় জ্যামাইকা। থিওডর হোয়াইটমোর দু’টি গোল করেন।
ফিফা: বর্তমানে আপনি স্প্রিন্ট থেকে অবসর নিয়েছেন। আপনি কি ফুটবলের সঙ্গে জড়াতে চাচ্ছেন? যদি তা হয় তবে সেটা কিভাবে।
বোল্ট: আমি আমার ট্র্যাক ও খেলার ক্ষেত্র থেকে অবসর নিয়েছি। বর্তমানে আমি ফুটবল খেলতে চাই। এ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই। ইতিমধ্যে আমি কিছু ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, আগস্টে আমি বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়ি এবং এরপর থেকে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে পারিনি। আমি আশা করি ২০১৮ সালে নতুন কিছু খেলায় অংশ নিতে পারব।
ফিফা: আপনি কি ট্রেনিংকালে অথবা ক্যাম্পে থাকতে অন্য অ্যাথলেটদের সঙ্গে ফুটবল খেলেছেন?
বোল্ট: জ্যামাইকায় পুরো শীতে আমি অনেক ফুটবল খেলেছি। আমার কোচ এটা পছন্দ করে এমন কিছু ছিল না। আমার সৌভাগ্য যে, ফুটবল খেলে কোনো ইনজুরিতে পড়তে হয়নি যেটা আমার অ্যাথলেটিক্স এর ট্রেনিংকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ফিফা: সারা বিশ্বে ফুটবলারদের গত মৌসুমের (২০১৬/১৭) সেরা ১১ জনকে ভোট দিতে হবে। গত মৌসুমে আপনার বিশ্ব সেরা একাদশে কারা থাকবেন এবং কেন?
বোল্ট: বিশ্বে অনেক নামীদামি খেলোয়াড় রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে সেরা ১১ জনকে বাছাই করা সহজ কাজ নয়। স্বভাবতই বিশ্ব সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি ও নেইমার। গোলের দিক থেকে গিগি বুফন, রক্ষণভাগে সার্জিও রামোস এবং লিওনার্দো বনুচ্চি, মারসেলো এবং দানি আলভেজ। মধ্যভাগে পল পগবা, এনগলো কান্টে এবং ফিলিপ কুটিনহো।
ফিফা: পুরুষ ক্যাটাগরিতে প্রথম তিনজন হিসেবে ফিফা সেরা খেলোয়াড়ের মনোনয়ন পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি ও নেইমার। আপনার দৃষ্টিতে এই তিনজনের মধ্যে সেরা কে ?
বোল্ট: এই তিনজনের প্রত্যেকেই চমৎকার খেলোয়াড়। তবে এই তিনজনের মধ্যে আমি রোনালদোকেই প্রথম হিসেবে বেছে নেবো। কারণ গত বছর ক্রিস্টিয়ানো লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয় করে এসেছে এবং পঞ্চম আসরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তার বছরের পর বছর শীর্ষস্থান ধরে রাখা সত্যিই আশ্চর্যজনক।
ফিফা: পুরুষদের জন্য এবার তিন সেরা কোচের মনোনয়ন পেয়েছেন ম্যাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি, অ্যান্তনিও কন্তে এবং জিনেদিন জিদান। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনি তাদের মধ্যে কাকে কোচ হিসেবে পছন্দ করেন, কেন?
বোল্ট: আমি জিদানকে পছন্দ করি। সত্যিকার অর্থেই একজন ভালো খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে জিদান অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। তিনি পাঁচটি টুর্নামেন্টে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জিতেছেন।
ফিফা: এ বছর ফিফা সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। আপনার দৃষ্টিতে এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক কে এবং কেন ?
বোল্ট: জিয়ানলুইজি বুফন। বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৪০ বছর হলেও তার বিপক্ষে গোল করা কঠিন। আমি মনে করি একজন ভালো গোলরক্ষক সবসময় সতীর্থ খেলোয়াড়দের সামনে আস্থা ও নির্ভরতা তৈরি করে দেয়। তিনি বরাবরই সেটি করে আসছেন।
ফিফা: ২০১৬-১৭ মৌসুমে সেরা গোল হিসেবে ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। এ পুরস্কারের জন্য আপনি কাকে ভোট দিবেন এবং কেন?
বোল্ট: আমি অস্কারাইন মাসুলুককে ভোট দেবো। একজন গোলরক্ষক হিসেবে ওভারহেড কিকে গোল করা আশ্চর্যজনক।
ফিফা: কোন কোন বিষয় লন্ডন শহরকে বিশেষত্ব এনে দিয়েছে। শহর হিসেবে লন্ডন আপনার কাছে কেমন?
বোল্ট: গত ১৫ বছর ধরে প্রতিবছরই আমি লন্ডনে আসি। সাধারণত খেলার মৌসুমে আমি এখানে আসি। এটি আমার সেকেন্ড হোম। লন্ডনে অনেক জ্যামাইক্যান বসবাস করে। আমি যখন খেলায় অংশ নেই সবসময়ই তাদের কাছ থেকে সমর্থন পেয়ে আসছি।
ফিফা: তরুণ বালক ও বালিকা যারা ফুটবল, স্প্রিন্ট অথবা অন্যকোনো খেলায় বিশ্বসেরা হতে চায় তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?
বোল্ট: সঠিক লোককে বেছে নিন, যে আপনাকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে। আর সাফল্য পেতে অবশ্যই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে, নিজের ওপর আস্থা রাখতে হবে, কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে। মনে রেখো কেবল এক দিনেই সাফল্য আসবে না। কোন কিছুই অসম্ভব নয়- এটাই হোক তোমার শপথ।