রোলবলের টার্গেট টোকিও অলিম্পিক

26

এ বছরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে চতুর্থ রোলবল বিশ্বকাপ। বছর না ঘুরতেই আরেকটি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশন। আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জুনিয়র রোলবল বিশ্বকাপ। এছাড়া ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি সর্বাধুনিক ব্যাংকড ট্র্যাক নির্মাণ করে দেবে ওরিয়ন গ্রুপ। ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকে পদক জয়ের লক্ষ্য ধরেই এসব কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশন। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। এ সময় ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালমান ওবায়দুল করিম, নৌমন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ এবং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আসিফুল হাসানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩৯ দেশের প্রায় ছয়শ’ স্কেটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ রোলবল বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ চতুর্থস্থান অর্জন করে। সেই ধারাবাহিকতায় জুনিয়রদের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে স্কেটিং ফেডারেশন। তবে এসব আয়োজনের নেপথ্যে মূলত অলিম্পিকে পদক জয়ের স্বপ্নই কাজ করছে। ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দক্ষতা দেখিয়ে আমরা বড়দের বিশ্বকাপ শেষ করেছি। সেই দক্ষতা দেখেই এবার জুনিয়র বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য দায়িত্ব পেয়েছি আমরা।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের লক্ষ্য টোকিও অলিম্পিকে পদক জেতা। সে লক্ষ্যেই আমরা এবার জেলা ও বিভাগে প্রতিভা অন্বেষণে মনোযোগ দিয়েছি। প্রত্যেকটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা, শহরের স্কুল ও স্পোর্টস ক্লাবের মাধ্যমে খেলোয়াড় সংগ্রহ করা হবে। এদের নিয়েই চলে প্রশিক্ষণ। পরে সেই প্রশিক্ষণ শেষে একটি বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২৫ জন করে ছেলে ও মেয়েকে বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত করা হবে। সেখান থেকে ইয়েস কার্ডের মাধ্যমে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বের জন্য আসবে ১০ জন করে ছেলে ও মেয়ে। চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃতদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এভাবেই আমরা অলিম্পিকের জন্য খেলোয়াড় বাছাই করবো।’ ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালমান ওবায়দুল করিম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য টোকিও অলিম্পিকে সোনা জেতা। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আসলে শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স থাকলেও কার্ভ স্কেটিং ট্র্যাক নেই। তাই ভালুকায় ওরিয়ন গ্রুপের সহায়তায় প্রায় শ’খানেক স্কেটারের আবাসিক সুবিধাসহ একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করবো আমরা। যেখানে অনুশীলনের মাধ্যমে আমাদের সেই পদক জয়ের স্বপ্নকে পূরণ করবে।’ ভালুকায় নির্মিতব্য স্টেডিয়াম নিয়ে সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আসিফুল হাসান বলেন, ‘ভালুকায়  স্টেডিয়ামে একটি চারতলা ভবন তৈরি করা হবে। যেখানে একশ’জন পুরুষ ও মহিলা ক্রীড়াবিদ থাকবেন। সেখানে তাদের লেখাপড়া, আন্তর্জাতিক মানের থাকা ও খাওয়ার সু-ব্যবস্থা থাকবে। স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের জিম, ২০০ মিটারের ব্যাংকড ট্র্যাক, একটি ৫০০ মিটারের রোড ট্র্যাক, কনফারেন্স রুম, ডাইনিং রুম, ভিভিআইপিদের বসার সু-ব্যবস্থা, স্টেডিয়ামের অন্যদিকে থাকবে দর্শকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের গ্যালারি এবং ফ্লাডলাইটেরও ব্যবস্থা থাকবে।’ এই আধুনিক ট্রাক নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ভারত সফর করেছে ফেডারেশনের একটি প্রতিনিধি দল। ভারতের আদলেই ভালুকায় তৈরি করা হবে রোলবল কমপ্লেক্সটি।