রোহিঙ্গাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংরক্ষণ করবে ইসি

31

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে তাদের আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোহিঙ্গাদের কেউ ভোটার হতে আসলে এই আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে অটোমেটিক ফিঙ্গার আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের (এএফআইএস) মাধ্যমে তাদের  শনাক্ত করা যাবে। এ লক্ষ্যে বর্তমানে কক্সবাজারে চলমান রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনে যাচ্ছে ইসির একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল। এনআইডি উইংয়ের সিস্টেম এলালিস্ট, একজন সহকারী পরিচালক ও দুজন টেকনিক্যাল এক্সপার্টকে বিশেষজ্ঞ টিমে রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে আমরা চিঠি দিয়েছি। আশা করি, শিগগির কক্সবাজারে যাবে ইসির বিশেষজ্ঞ দল। সেখানে কী সফটওয়্যার ব্যবহার হচ্ছে বা আমাদের কোনো সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে কি না সবকিছুর সম্ভাব্যতা যাচাই সম্ভব হবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন কার্যক্রম পরিদর্শন করতে ২৭শে সেপ্টেম্বর বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে ইসি সচিবালয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের প্রক্রিয়াটি ইসি সচিবালয়ের এনআইডির কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অথবা গৃহীত বায়োমেট্রিক ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর ব্যাপারে সম্ভাব্যতা যাচাই ও সহযোগিতার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, নাগরিকদের ভোটার তালিকাভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে ইসি তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন করছে। এ সময় বায়োমেট্রিক নেয়া হয়। রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিকের কাজও চলছে এখন। এক্ষেত্রে পাসপোর্ট অধিদপ্তর কী ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, কী কী প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন হচ্ছে- তা জানার জন্যই এ কারিগরি টিম পাঠানো হচ্ছে। ইসির এনআইডি উইং সূত্রে জানা গেছে, ইসির কাছে ১০ কোটি ১৮ লাখেরও বেশি নাগরিকের তথ্যভাণ্ডার রয়েছে। ভোটার প্রক্রিয়াও চলমান থাকছে সব সময়। অনুপ্রবেশকারী কেউ ভোটার হয়ে থাকলে তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে বায়োমেট্রিক যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে জালিয়াতি খুব সহজেই ধরা পড়বে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে নাগরিকদের তথ্য নেয়ার পাশাপাশি ছবি, দশ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ দিতে হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনে নেয়া হচ্ছে কয়েকটি তথ্য, ছবি ও আঙুলের ছাপ। এএফআইএস (অটোমেটিক ফিঙ্গার আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) সাপোর্ট সার্ভিসের মাধ্যমে দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করা হয়। রোহিঙ্গাদের আঙুলের ছাপ একই পদ্ধতিতে তথ্যভাণ্ডারে ম্যাচিং করে দেখলে জালিয়াতদের দ্রুত ধরা যাবে। এক্ষেত্রে ইসির সফটওয়্যার ও কক্সবাজারে চলমান নিবন্ধন কাজের সফটওয়্যারের মিল থাকতে হবে। কারিগরি টিম তা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করলে পরবর্তীকালে পদক্ষেপ নিতে সুবিধা হবে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া ও কুতুপালংয়ের দুটি কেন্দ্রে গত ১১ই সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিবন্ধন শুরু হয়। তিন মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করার টার্গেট ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের। এদিকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ৩২টি বিশেষ এলাকায় ভোটার তালিকা হালনাগাদে ইতিমধ্যে বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। সামপ্রতিক পরিস্থিতিতে কঠোর নির্দেশনাও রয়েছে। ভোটার নিবন্ধনে যাচাই-বাছাই ও নির্ভুল-নিখুঁত করার সুবিধার্থে কক্সবাজার জেলার বিশেষ কমিটির সদস্যদের কর্মশালাও করা হবে। ৭ থেকে ৯ই অক্টোবর দুই শতাধিক সদস্যকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যাতে একজন রোহিঙ্গাও ভোটার হতে না পারে। যাচাই-বাছাইয়ের টেকনিকগুলো যথাযথভাবে যেন প্রতিপালন করা হয় সে নির্দেশনাও থাকবে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর ২৫শে আগস্ট থেকে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং ত্রাণ ব্যবস্থাপনার জন্য তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ৬১ হাজার রোহিঙ্গা নিবন্ধনও কার্ড পেয়েছেন। সামপ্রতিক অভিযানের আগেই কক্সবাজারে ৩০ হাজারের মতো নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছে। গেল বছর একটি প্রকল্পের মাধ্যমে একটি অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের শুমারি হয়। তাতে ছবিসহ ৪৬টি তথ্য নিয়ে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত কয়েক লাখ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের ডেটাবেইজ করা হয়। তবে তাদের কোনো বায়োমেট্রিক নিবন্ধন হয়নি। সব মিলিয়ে নতুন ও পুরনো অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি রোধে ইসির নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা