রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে: প্রেসিডেন্ট

27

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে পূজা পরিদর্শনে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বের সকল দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও এগিয়ে আসতে হবে। মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করতে হবে। বন্যার কারণে হাওরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকের আনন্দের সঙ্গে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কেউ যাতে উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে আপনারা দুর্গোৎসবের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হবেন। ধর্মের বিভেদকে দূরে সরিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়ে মো. আবদুল হামিদ বলেন, আজ বিশ্বজুড়ে হিংসা, বিদ্বেষ আর ধ্বংস আমাদের সামনে এক ভয়াবহ অশনি সংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে। এ হত্যা আর ধ্বংস প্রতিরোধে আমাদেরকে ধর্মের অহিংস ও শান্তির অমিয় বাণী বিশ্ব জনতার কাছে তুলে ধরতে হবে। রামকৃষ্ণ মিশনে প্রেসিডেন্ট পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান মঠের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ মহারাজ। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দুর্গাপূজা পরিদর্শন করেন। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে তিনি শারদীয় দুর্গোৎসবের সার্বজনীনতার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ঠেকাতে নিজের সরাসরি অংশ নেয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। মো. আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আক্রমণ হয়েছিল। আক্রান্ত হয়েছিল নব্বইয়ের সাম্প্রদায়িক হামলার সময়েও। আমি সে সময় এই মন্দিরে এসেছি। আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সে সময় বাংলাদেশের মানুষ আসুরিক শক্তিকে পরাজিত করতে এক হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রক্ষায় সবাইকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি দুর্গাপূজার আয়োজন ধর্মান্ধতা ও জঙ্গিবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জাতীয় ঐক্য ও সংহতিকে আরো দৃঢ় করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডি এন চ্যাটার্জি বক্তব্য রাখেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু প্রমুখ।

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা