লি টাকের অভাব পূরণই ঢাকা আবাহনীর চ্যালেঞ্জ

29

এএফসি কাপে শুরুর দিকে ছন্নছাড়া ঢাকা আবাহনী পথ খুঁজে পায় ৩রা মে। এএফসি কাপের খেলায় সেদিন তারা আই-লীগের সাবেক চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু এফসিকে ২-০ গোলে হরায়। যদিও এই টুর্নামেন্টে বাকি সব ম্যাচই হেরেছে ঢাকার জায়ান্ট। হারটা একপাশে রেখে এএফসি কাপে খেলার অভিজ্ঞতাকেই নতুন মৌসুমের জন্য বড় করে দেখছে আবাহনী। সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছে ফেডারেশন কাপের শিরোপা। অন্যদের চেয়ে আকাশি-নীলরা এদিকটায় অনেক এগিয়ে থেকেই আগামী শুক্রবার শুরু করছে লীগ। এএফসি কাপে ঘরের মাঠে চতুর্থ ম্যাচে ভালো খেলা বাড়তি উজ্জীবনী শক্তি। তার ওপর আবাহনী ঘরোয়া ফুটবলে গত মৌসুমে তিনটি শিরোপার দুটিই জিতেছে। ফেডারেশন কাপ ও লীগ। এবার ফেডারেশন কাপ জিতে মৌসুম শুরু করেছে। এখন লীগ ও স্বাধীনতা কাপ জেতাটা তাদের ‘দায়িত্ব’ বলে মনে করছেন দলটির ম্যানেজার সত্যজিত দাস রূপু। শিরোপার দাবিদার অন্য দলগুলোর চেয়ে আবাহনীকে কাগজে-কলমে এগিয়ে রাখছেন আবাহনীর এই ম্যানেজার।
ইংলিশ প্লে মেকার লি টাককে ধরে রাখা যায়নি। গতবারের সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারিগরকে হারানো আবাহনীর জন্য বিরাট ক্ষতি। আরিফ, তপু বর্মণরা দল ছাড়ায় রক্ষণভাগও শক্তি হারিয়েছে। জুয়েল, হেমন্তরা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মাঝমাঠও। এএফসি কাপ ও ফেডারেশন কাপে যা ভালোই টের পাওয়া গেছে। কিন্তু স্থানীয় খেলোয়াড়েরা উনিশ-বিশ হওয়ায় তাদের ঘাটতি পূরণ করা গেছে নাসির উদ্দিন, রায়হান, ইয়ামিন, রুবেল মিয়া, সোহেল রানাদের এনে। বিশেষ করে রুবেলকে চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে আনতে পারা ঢাকা আবাহনীর জন্য বড় পাওয়া।
বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে প্রায় মাঝমাঠ থেকে রুবেলের দেয়া গোলটির কথা তুলে আবাহনীর সহকারী কোচ আলী ইয়াকুব ঝন্টু ক্লাব মাঠে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় এ মুহূর্তে দেশের সেরা উইঙ্গার এই ছেলেটা। নিজেকে গড়ে তুলতে পারলে দেখবেন ও ভালো প্লেয়ার হবে।’ ফেডারেশন কাপেও তার প্রমাণ মিলেছে। শুধু রুবেল মিয়া নন, গোলরক্ষক সোহেলকে নিয়েও টিম ম্যানেজমেন্ট খুশি। এএফসি কাপ ও ফেডারেশন কাপে ভালো খেলছেন চট্টগ্রামের ছেলে।
আবাহনীর সিনিয়র খেলোয়াড় ওয়ালী ফয়সাল, প্রাণতোষদের কথায়, সমস্যা যা একটু মাঝমাঠ নিয়েই। তবে লি টাকের অভাব ঢাকার মাঠের পরিচিত ফুটবলার শেখ জামাল থেকে আসা ল্যান্ডিং দারবোয়ে পূরণ করতে পারবেন বলেই তাদের বিশ্বাস। তবে সত্যি হলো, লি টাক মানের ফুটবলার খুব বেশি পাওয়া যায় না। ইমন বাবুর চোট সারিয়ে ফেরাটা অবশ্য দলের জন্য সুখবর। একই সঙ্গে ল্যান্ডিংকে পেয়ে ওয়ালীরা একটু যেন নির্ভারও।
আবাহনীর কোচ দ্রাগো মামিচ এই দলটাকে গতবারের চেয়ে বেশি নম্বর দিলেন না। সহকারী কোচ অমলেশ সেনও একমত। দুজনেরই কথা, লি টাক না থাকায় আবাহনী গতবারের মানের দল হয়নি। যদিও অভিজ্ঞদের সঙ্গে রুবেল মিয়া-সাদদের মতো তারুণ্যের শক্তিতে আবাহনী ভালো করবে নতুন মৌসুমে, এই বিশ্বাস তাদের আছে। মাঠে আবাহনী সেটা করে দেখাতে পারলেই মাঠে ফিরবে দর্শক-সমর্থক। ফুটবলের এই ক্রান্তিকালে যেটি বড় জরুরি। এখানে একটা প্রতিবন্ধকতা দেখছেন ক্রোয়েশিয়ান এই কোচ। ‘দেখুন একটি টুর্নামেন্টের পর লীগ শুরুতে দুই মাসের বিরতি। পৃথিবীর কোথাও এমন বিরতি দেয়া হয় না। যেখানে ফুটবল ফেডারেশনের কোনো ভিশন নেই, সেখানে ভালো ফুটবল আশা করেন কিভাবে।’
পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে তুলনা করে মামিচ বলেন, ভারতে লীগ শেষ হয়েছে দুই মাস আগে। এখন তারা নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লম্বা বিরতির পর এখানে আমরা ভরা বর্ষার মৌসুমে লীগের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত। তারপরেও লীগের প্রস্তুতি নিয়ে মামিচ বলেন, আমাদের প্রস্তুতি ভালো হচ্ছে। এএফসি কাপের জন্য আগেই অনুশীলন শুরু করায় দলটা সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়েছে আমার। এএফসি কাপের হতাশাও কাটিয়ে উঠে আমরা ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তবে লীগ আগে দেখা হয়নি বলে এ নিয়ে কিছু বলতে পারবো না। সবার মুখে শুনেছি, পাঁচ-ছয়টি দল কাছাকাছি মানের। তাই লড়াইটা বেশ জমবে বলেই মনে হচ্ছে। আমাদের মাঝমাঠের দুর্বলতা নিয়ে অনেকে বলছেন। তবে চোট সারিয়ে ইমন বাবু ফিরেছে। আমি মনে করি, ইমন হবে আমাদের প্লে-মেকার।
পেশাদার লীগের আগের নয় আসরের মধ্যে পাঁচটির শিরোপা জিতেছে ঢাকা আবাহনী। শুরুর তিন আসরের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন তারা। এবারও লীগের পাশাপাশি সবকটি শিরোপা ঘরে তুলতে চায় আকাশি-হলুদ শিবির। ফেডারেশন কাপে দলের পারফরম্যান্স দেখে তেমনটাই আশা করছেন রূপু। তারমতে ফেডারেশন কাপে আমরা অন্য দলগুলোর খেলা দেখেছি। তাতে মনে হয়েছে মৌসুমের সবকটি শিরোপা জেতা আমাদের দায়িত্ব। সবাই লীগের জন্য প্রস্তুত আছে জানিয়ে রূপু বলেন, ওয়ালী ফয়সাল ও জীবন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। সেখান থেকে ওরা সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরছে বাকিরা প্রস্তুত।
শক্তি: আত্মবিশ্বাস

দুর্বলতা: মাঝ মাঠ

যারা এলেন
নাসির উদ্দিন, ইয়ামিন মুন্না, রায়হান, সোহেল রানা, রুবেল মিয়া, জিতু, দিদার, এমেকা, ল্যান্ডিং
যারা গেলেন
আরিফ, হেমন্ত, তপু বর্মণ, শাকিল, জুয়েল রানা, ফয়সাল মাহমুদ, লি টাক, সানডে
পুরনো মুখ
ওয়ালী ফয়সাল, প্রাণতোষ, সোহেল, টিটো, সুলতান, সামাদ ইউসুফ, জীবন, ইমন বাবু, বাদশা, ফাহাদ, ছোট শাহেদ, সাদ