লুটপাটের বাজেট

29

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে লুটপাটের বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, এ বাজেট লুটপাটের বাজেট। বাজেটে আওয়ামী লীগকে চুরি করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। আর বাজেটে অর্থমন্ত্রী নিজেও কিছু করতে পারেননি। কারণ হাসিনার কথা মতোই বাজেট তৈরি হয়। সুতরাং হাসিনা যা চান বাজেটে তাই হয়। তাই অর্থমন্ত্রীর নয়, এই বাজেট হাসিনার। এ ছাড়া এ বাজেট আর বাজেট থাকবে না। দেখবেন, একটি প্রকল্প ১০ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা, কিন্তু সেটা পরে আবার ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা করা হবে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা ও ইফতার আয়োজন করা হয়। খালেদা জিয়া বলেন, বাজেটের কী দরকার? প্রত্যেকবারই তো বাজেট করা হয় এবং সে বাজেট শেষ হয়। খালেদা জিয়া বলেন, বাজেটের আগেই সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। আরো একটি লুটপাটের জন্য এটা করা হয়েছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি বন্ধ রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে সরকার। তারা ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির মতো নির্বাচনের চেষ্টা করছে। তবে সরকারের এই অপচেষ্টা সফল হবে না। সেই রকম ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনে দেশের কোনো দলই অংশগ্রহণ করবে না। ৫ই জানুয়ারির মতো নির্বাচনের চেষ্টা করলে, সেখান থেকেই সরকারকে বিদায় নিতে হবে। তিনি বলেন, দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। এর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে। আর এই নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এই নির্বাচনে যে বিজয়ী হবে জনগণ এবং আমরা তাদেরকে মেনে নেব। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের কী দুরবস্থা। এটা আমরা প্রধান বিচারপতির বক্তব্য পড়লেই বুঝতে পারি। এই সরকারের থাবা এত বেশি যে তারা সবদিকে হাত দিয়েছে। কোনো জায়গা বাদ রাখে নাই। কারণ সব তার (শেখ হাসিনার) নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং তিনি আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির বক্তব্য দেখে আমরা বুঝেছি, নিম্ন আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এখানে সরকার যা নির্দেশ দেন বিচারকদের সেই নির্দেশ মেনে কাজ করতে হয়। সেই অনুযায়ী রায় দিতে হয়। আর বিচারক যদি নিজের বিবেক দিয়ে রায় দেন তাহলে সেই বিচারককে হয় চাকরিচ্যুত হতে হবে না হয় দেশ ছাড়তে হবে। এমনকি সেই বিচারককে মামলা- হামলা দিয়েও হয়রানি করা হয়। আজ সাধারণ মানুষ বেশ অসহায়। খালেদা জিয়া বলেন, জালেমদের বিরুদ্ধে আজ বিচারক, ছাত্র, যুবক, শ্রমিক এবং মা-বোনসহ সর্বস্তরের মানুষের জেগে উঠা এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। দেশ থেকে এই জালেমদের বিতাড়িত করে দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, সমান অধিকার ও গণতন্ত্র পতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ দুর্গত এলাকায় এখনও সরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, মির্জা আব্বাসসহ বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা অংশ নেন।